অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিদের দণ্ড ভোগ না করে শর্তসাপেক্ষে তাদেরকে সংশোধনের সুযোগদানের জন্য নিম্ন আদালতকে নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ সংক্রান্ত এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীকে সব ক্ষেত্রে সাজা প্রদান করা আইন সমর্থন করে না। কেননা সাজা প্রদানের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সংশোধনমূলক, প্রতিহিংসামূলক নয়। এ কারণে অপরাধীর বয়স, চরিত্র, পূর্বাপর ইতিহাস, শারীরিক বা মানসিক অবস্থা ও অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আদালত দণ্ড প্রদান না করে একজন প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে তাকে নিজ বাড়িতে রাখার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ আইনে রয়েছে। এ কারণে নিম্ন আদালতের বিচারকদেরকে ১৯৬০ সালে প্রণীত এ সংক্রান্ত ‘দ্য প্রবেশন অফ অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স’ এর বিধান প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হলো। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, প্রচলিত এই আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে অবজ্ঞা বা প্রয়োগ না করা অসদাচরণের শামিল। এই আইন প্রতিপালনে বিচারকদের গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনতে স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এই সার্কুলার জারি করে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জ্যেষ্ঠ জেলা জজ ড. মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই সার্কুলার নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের কারাগারসমূহে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কারাগারসহ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এই আইনের বিধানাবলীর যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য। এ কারণে অভ্যাসগত অপরাধী নয় অর্থাত্ পূর্বে দণ্ডিত হয়নি এমন কোন অপরাধী সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তাকে সতর্ক করতে পারে। অথবা অনধিক এক বছরের জন্য কোন অপরাধ না করা এবং ভালো আচরণের শর্তে মুক্তির আদেশ দিতে পারে। এসব শর্ত ভঙ্গ করলে প্রদত্ত সাজা ভোগ করবে ওই অপরাধী। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডে দণ্ডিত বা দণ্ডবিধির অন্যান্য কিছু ব্যতিক্রমধর্মী অপরাধ ব্যতীত অন্য সকল অপরাধে দণ্ডিত পুরুষ ও নারী অপরাধীর ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক সাজা না দিয়ে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দিতে পারবেন বিচারক।
