মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
গার্মেন্ট সেক্টর থেকে ধীরে ধীরে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। এই সেক্টরে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমলেও বিক্রয় শাখায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়বে। গার্মেন্ট সেক্টরের মতো এখানেও নারী শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে বলে মনে করেন বিজ্ঞজনেরা। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে নেদারল্যান্ডের উন্নয়ন সংস্থা এসএনভি আয়োজিত ‘পোশাক খাতে প্রজনন ও অধিকারের (এসআরএইচআর) নিশ্চয়তায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনার এ এমন মন্তব্য করেন তারা। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক শামসুজ্জামান ভূঁইয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, কারখানায় শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্র কিংবা চিকিত্সা এরকম অনেক কিছুই মানসম্মত নয়। লোকবল সংকট নিয়ে ডিআইএফই এ বিষয়ে যতদূর সম্ভব নজর দিচ্ছে।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের এসআরএইচআর বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি ড. অ্যানি ভেস্টজেনস বলেন, এসআরএইচআর বিষয়ে বেসরকারি খাতের ভূমিকা এখনও সন্তোষজনক মানে পৌঁছেনি। এসএনভির ওয়ার্কিং উইথ উইমেন প্রকল্পের টিম লিডার ফারথিবা খান বলেন, এসআরএইচআর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে কারখানার মালিক এবং ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কাজ করছেন তারা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে অ্যাপারেল সোসাইটির প্রতিনিধি আবদুল আলিম বলেন, বিনা মূল্যে গার্মেন্ট কর্মীদের প্রতিদিন দুপুরে খাবার দিলে ৩৫ টাকার বিনিময়ে উত্পাদন বাড়বে ১৫০ টাকা। কারণ নারী শ্রমিক দুপুরে বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন না। দুপুরে একজন নারী শ্রমিক ৪৫ মিনিট বিশ্রাম নিলে তার কর্মক্ষমতা বেড়ে যেত।
পিউ লাইট ক্যাসেলের প্রতিনিধি বিজন ইসলামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম, সমকালের সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মুহিব, আলফা ক্লোদিংয়ের প্রতিনিধি গীতা পোয়ানি, লুবিস্তা ফার্মার ব্যবস্থাপক আয়নাল হক।
প্যানেল আলোচক আবু হেনা মুহিবের মতে, ৮০ শতাংশ গার্মেন্ট কর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না থাকায় ৬৩ শতাংশ নারী শ্রমিক অসুস্থ থাকেন। ২০ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজে অনুপস্থিত থাকেন। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ১২৭ কোটি টাকার বেশি পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় হারায়। এসএনভি’র জামাল উদ্দিন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
