হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা
সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক
হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর
১। গত শীতকালীন ছুটিতে সৌম্য তার দাদুর সাথে রাঙ্গামাটি বেড়াতে গিয়ে সুউচ্চ পাহাড়, স্বচ্ছ পানির লেক ও ঝরণা এবং উপরে অনন্ত আকাশ দেখে তার মনে এসব সৃষ্টি সম্পর্কে কৌতূহলের জন্ম নেয়। তার মনের অবস্থা বোঝতে পেরে দাদু তাকে বললেন, ‘অপূর্ব সুন্দর এ প্রকৃতির একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং তিনি সর্বত্র বিরাজিত।’ তাই দাদু সৌম্যকে কোনো প্রাণির প্রতি প্রতিহিংসা না করার উপদেশ দেন। বর্তমানে সৌম্য তার দাদুর উপদেশ অনুসারে জীবন পরিচালনা করে। এখন সে সমাজে অনুসরণীয়।
ক) ঈশ্বরের গুণ কয়টি? খ) ‘জীবাত্মার ধ্বংস বা মৃত্যু নেই’ ব্যাখ্যা করো। গ) সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে দাদুর বক্তব্য সৌম্যের মধ্যে যে ধারণার জন্ম দেয় তা বর্ণনা করো। ঘ) ‘সৌম্য ও তার দাদু শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে’ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক) উত্তর:ঈশ্বরের গুণ ছয়টি। যথা- (১) ঐশ্বর্য,
(২) বীর্য, (৩) যশ, (৪) শ্রী, (৫) জ্ঞান ও (৬) বৈরাগ্য।
খ) উত্তর:ঈশ্বর বা ব্রহ্মার আরেক নাম পরমাত্মা। এই আত্মা বা পরমাত্মা যখন জীবের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাঁকে জীবাত্মা বলা হয়। জীবাত্মার ধ্বংস নেই, জীবাত্মা শুধু দেহ পরিবর্তন করে। মানুষ যেমন পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র ধারণ করে জীবাত্মা ও পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। তাই জীবাত্মার ধ্বংস বা মৃত্যু নেই।
গ) উত্তর:উদ্দীপকের সৌম্য সৃষ্টি সম্পর্কে কৌতূহল জাগায় তার দাদু বলেন,অপূর্ব সুন্দর এ প্রকৃতির একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং তিনি সর্বত্র বিরাজিত। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো.... সৃষ্টি সম্পর্কে দাদুর বক্তব্যে সৌম্য বোঝতে পেরেছে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তিনি এ মহাবিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু ঠিকভাবে পরিচালনা করছেন। তিনি আকাশ, বাতাস, পাহাড়, পর্বত, বনভূমি, নদী-নালা, সাগর-মহাসাগর, গাছপালা ও বিচিত্র সব জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন। এই মহাবিশ্বের সকল কিছুই তার অধীন। এমনকি ঈশ্বর তাঁর অসীম ক্ষমতা দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চন্দ্র, সূর্য, তারা, গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি সবকিছুই পরিচালনা করছেন। তাঁর সৃষ্টির কাউকে তিনি সীমাহীন সুখ-শান্তি ও ধনরত্ন দান করে থাকেন আবার কাউকে দু:খ-কষ্ট, অভাব-অনটন দিয়ে থাকেন। এই মহাবিশ্বের কোন কিছুই আপনা আপনি চলতে পারে না। মূলত সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের কারণই ঈশ্বর।
ঘ) উত্তর:উদ্দীপকে সৌম্যের দাদু সৌম্যকে ধারণা দেন এ পৃথিবীর সবকিছুর সৃষ্টির পিছনে রয়েছেন স্বয়ং ঈশ্বর এবং তিনিই সবকিছু সুন্দরভাবে পরিচালনা করছেন। তাছাড়া তিনি সৌম্যকে কোনো প্রাণির প্রতি প্রতিহিংসা না করার উপদেশ দেন। কারণ জীবের প্রতি হিংসা করলে ঈশ্বরকেই হিংসা করা হয়। মূলত সৌম্য ও তার দাদুর মধ্যে হিন্দুধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। সৌম্যের দাদু একজন ধর্মপরায়ন মানুষ। তিনি তার নাতিকে হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্যের আলোকে গঠন করার চেষ্টা করেছেন। সৌম্যও তার দাদুর উপদেশ পালনে সদা সচেষ্ট। আমাদের বর্তমান সমাজে সবত্রই অশান্তি বিরাজ করছে। কেউ কারো কথা শুনছে না। মানুষ তার মনুষত্ব হারিয়ে ফেলেছে। মারামারি, হানাহানি, খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ, নির্যাতন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈশ্বরভীতি কমে এসেছে। প্রত্যেকে প্রত্যেককে হিংসা করছে। কেউ কারো কাছে নিরাপদ নয়। সন্তান নিরাপদ নয় তার পিতামাতার নিকট আবার পিতামাতাও নিরাপদ নয় তার সন্তানের নিকট। ভাই-বোন একজন আরেকজনের অনেক সময় চক্ষুশূল হয়ে যাচ্ছে। এমনটি আমরা পত্র পত্রিকায় দেখতে পাই। এমন অবস্থায় সৌম্য ও তার দাদু ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে, অহিংসা পরমধর্ম একথাটি বোঝাতে চেয়েছেন। তাছাড়া এ পৃথিবীর সকল জীবই ঈশ্বরের সৃষ্টি। ঈশ্বর সর্বদা সকল জীবে বিরাজ করেন। তাই কোনো জীবকে প্রতিহিংসা না করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাহলেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে।
