নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
সিলেট-আখাউড়া রুটে শ্রীমঙ্গল থেকে কুলাউড়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ক্লিপ, হুক চুরি ও পাথর কমে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে রেলপথ। স্লিপারে নাটবল্টু দিয়ে রেল লাইন আটকে থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে ক্লিপ-নাটবল্টু নেই।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, সেকশনের ভানুগাছ, শমশেরনগর, মনু, টিলাগাঁও, লংলা স্টেশনের মধ্যখানে অসংখ্য স্থানে ক্লিপ-হুক নেই। এমনকি লাইনের জোড়ার স্থান থেকেও ক্লিপ চুরি হয়ে গেছে। দিনের পর দিন ক্লিপ-হুক, নাটবল্টু, ফিশপ্লেট চুরি হয়ে যাওয়ায় সেকশনটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় রেলপথ শ্রমিক, গেটম্যানসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে রেলপথে ক্লিপ, হুক, নাটবল্টু চুরি হচ্ছে। শমশেরনগর, মনু, টিলাগাঁও, লংলা এলাকার একটি চক্র নিয়মিত এসব চুরি করে নিয়ে যায়। তাছাড়া স্লিপারের সঙ্গে যুক্ত এসব ক্লিপ ট্রেন আসা যাওয়ার সময়ও খুলে পড়ে। চুরি যাওয়া এসব যন্ত্রাংশ দ্রুত লাগানোর নিয়ম থাকলেও মাঝেমধ্যে দু-একটি স্থানে লাগানো হয়। নিয়মিত সংস্কার, পাথর ফেলা, ক্লিপ ও হুক লাগানো প্রয়োজন। ট্রেন আসা যাওয়ার সময় লাইনের নাজুক অবস্থার বিষয়টি বোঝা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ট্রেন ধীরে ধীরে চলতে দেখা যায়। তারা আরো বলেন, ব্রিজ-কালভার্টেরও জীর্ণদশা। এই সেকশন দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী আন্তঃনগর, লোকাল ও মালবাহী মিলিয়ে গড়ে ১৬টি ট্রেন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়ত করছে। দুই বছর আগেও এই সেকশনের লাউয়াছড়া এলাকায় ব্রিজ কালভার্ট ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। রেলপথ ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে বিগত বছরগুলোতে লাউয়াছড়া উদ্যানের পাহাড়ি এলাকায় একাধিকবার ট্রেন আটকে পড়ে।
কমলগঞ্জের শিক্ষক জমশেদ আলী ও সমাজকর্মী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অতীতে ট্রলিযোগে রেলের প্রকৌশল বিভাগের লোকজনকে নিয়মিত রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য চলাচল করতে দেখা যেত। বর্তমানে এ দৃশ্য তেমন চোখে পড়ে না। ক্লিপ, হুক ও ব্রিজ-কালভার্টগুলোর লোহার পাত চুরি হয়ে যাওয়ায় রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভানুগাছ স্টেশন মাস্টার কবির আহমদ বলেন, আমাদের দায়িত্ব স্টেশনে। রেলপথ দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে স্টেশন এলাকা বা রেলপথে পাথর কমে যাওয়া, ক্লিপ, হুক চুরির কথা মাঝেমধ্যে শোনা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গলের রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) গুলজার আহমদ ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, আমরা রেলপথে হুক, ক্লিপ নিয়মিত লাগিয়ে থাকি। সেগুলো আবার চুরি হয়ে যায়। যেখানে এগুলো চুরি হচ্ছে সেখানে আমরা লাগিয়ে দিচ্ছি। তিনি দাবি করেন রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাছাড়া রেলপথে যেসব স্থানে পাথর কমে গেছে সেসব স্থানে পাথর ফেলা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ি এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে। এটি রেলপথের জন্য ঝুঁকির কারণ।
