গুরুদাসপুরে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বদলে যাচ্ছে অনেকের জীবন

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ২১:২১

মো. রাশিদুল ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

ঘরে বসেই বিদেশি সব চাহিদার কাজ সম্পন্ন করছেন। এই কাজের বিনিময়ে পাচ্ছেন অর্থ। তবে এই অর্থ দেশের টাকা নয়। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা রূপে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই আয় বদলে দিয়েছে বেকার মুস্তাকিম জনিদের ভাগ্য। ঘরে ফিরেছে সচ্ছলতা। শুধু মুস্তাকিম জনি একা নন। গুরুদাসপুরে তার মতো প্রায় হাজারখানেক যুবক এভাবেই ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে শত শত ডলার আয় করছেন। মুস্তাকিম জনির বাড়ি গুরুদাসপুরের সীমান্ত নাছিয়ারকান্দী গ্রামে। মুস্তাকিম জনি জানান, শুরুতে মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশনের ওপর ক্লাস নিতেন। কিন্তু তাতে দিনাতিপাত হচ্ছিল না। একারণে আয়ের বিকল্প চিন্তা ঘিরে ধরে। সে সময় নতুন করে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও অ্যাডিটিং, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের মতো কাজ তিনি রপ্ত করেন। এরপর ২০১৭ সালে শুরু হয় তার ফ্রিল্যান্সিং জগতের কর্মজজ্ঞ। ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রবেশ করে মুস্তাকিম জনি সফল হয়েছেন। ঘুচেছে সংসারের অভাবও। এখন সংসারের চাহিদা পূরণ করে তিনি নিজের লেখাপড়ার খরচের যোগানও দেন এই আয় থেকেই। মুস্তাকিম জনি বর্তমানে চট্টগ্রামের হাটহাজারি মাদ্রাসায় মিসকাতে অধ্যয়ন করছেন। তবে সরকারিভাবে সহায়তা পেলে তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য বড় ইনস্টিটিউট গড়তে চান।

মুস্তাকিম জনির বাবা লোকমান হোসেন জানান, তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। তিনি পেশায় ফেরিওয়ালা ছিলেন। ফেরি করে হাঁড়িপাতিল বিক্রি করতেন। কিন্তু ঐ সীমিত আয়ে তিন ছেলের লেখা-পড়া এবং সংসারের খরচ বহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। তবে মেঝ ছেলে মুস্তাকিম জনি কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করলেও ফ্রিল্যান্সের মাধ্যমে আয় শুরু করেন। মূলত তার পর থেকেই সংসারে অভাব দূর হতে থাকে। মুস্তাকিমের ফ্রিল্যান্সিংয়ের অর্থে তারা এখন স্বাবলম্বী।

গুরুদাসপুরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সহকারী প্রোগ্রামার মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, তাদের অফিসের হিসাবমতে, গুরুদাসপুর উপজেলার প্রায় ১ হাজারের বেশি শিক্ষিত যুবক ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। আগামী এক বছরে ফ্রিল্যান্সার বৃদ্ধি পাবে অধিক হারে। তবে সরকারিভাবেও এসব ফ্রিল্যান্সারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুনদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার জন্য উত্সাহিত করতেও কাজ করা হবে। আরেক ফ্রিল্যান্সার আবু সাঈদ জানান, ছোট অফিসে তার অধীনে অন্তত ২০ জন তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত রয়েছেন। মূলত বিদেশিদের দেওয়া চাহিদার ভিত্তিতে তারা ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স, কিওয়ার্ড রিসার্চ, এসইও, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, গুগল অ্যানালাইটিকসহ নানা ধরনের কাজ করে থাকেন। কয়েক ঘণ্টার কাজে প্রতিটি চাহিদায় ন্যূনতম ১০০ ডলার আয় হয়। এই আয়ে যেমন বেকারত্ব দূর হচ্ছে তেমনি দেশের রেমিট্যান্সও বাড়ছে। গুরুদাসপুরের সরকারি বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক প্রশান্ত কুমার জানান, গুরুদাসপুরের বহু যুবক এখন ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করে বেকারত্ব দূর করছেন। চাকরির পিছনে ছোটাছুটি না করে শিক্ষিত যুবকরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রবেশ করলে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে।