স্পোর্টস রিপোর্টার
সাত সমুদ্র তের নদীর এপার হতেও বোঝা যায়। অনুমান করা যায় এখন সাফ নিয়ে মালদ্বীপের বুকে কতটুকু উত্তাপ আছে। আদৌ আছে কি না। স্বাগতিক মালদ্বীপের বিদায়ের পর ফুটবল আলোর ঝলকানি নিভে গেছে, এ কথা সহজেই অনুমেয়। সাফের মঞ্চ হতে বাংলাদেশের বিদায় হয়ে যাওয়ায় টিভির পর্দায় বাংলাদেশ ফুটবল দর্শকদেরও আগ্রহ নেই। তবে এটা ঠিক যে, মালদ্বীপে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন তারা এখন নেপালের বিপক্ষে ড্রয়ের বেদনায় ভুগছেন। উজবেকিস্তানের রেফারি যেভাবে খেলাটা পরিচালনা করেছেন তা ভালো লাগেনি মাঠে বসে খেলা উপভোগকারী দর্শকদের। নেপাল ভারত সাফের ফাইনালের মঞ্চে আজ অনেকেই আগ্রহ না থাকারই কথা। তার পরও এটি সাফের ফাইনাল। উপমহাদেশের ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই।
ভারত নেপাল মুখোমুখি হবে, তবে সাফের সাফল্যের বিচারে এই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য যোজন যোজন দূর। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল লড়াইয়ের ফাইনালের মঞ্চে এবারই প্রথম উঠে এসেছে নেপাল। ২৮ বছরের অপেক্ষা। নেপাল কখনো সাফের ফাইনালে খেলতে পারেনি। সাফের পরিসংখ্যান বলছে, নেপালের সাফল্য বলতে তারা একবার তৃতীয় স্থান পেয়েছিল। সেটি ১৯৯৩ সালের সাফে। হিমালয় কন্যা নেপাল সাফের শক্তিশালী দল। কিন্তু বার বারই মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল। এবার প্রথম ফাইনালে উঠে প্রতিপক্ষ পেয়েছে ভারতকে। ভারত সাফের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সবচেয়ে সফল দল। সাফের ১৩টি আসরের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। আর তাদের সামনে নেপাল ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতাই অর্জন করতে পারেনি। এখন মালদ্বীপে সাফের ১৩তম আসর। শেষ আসর ২০১৮ সালে ঢাকায় সাফের চ্যাম্পিয়ন ছিল মালদ্বীপ, ভারতকে হারিয়ে। সেই হারের জ্বালা মেটাতে, শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে ভারত আজ মাঠে নামবে।
সাফের এই আসরে এবার ভারত নেপাল দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। কারণ এবার পাঁচ দল নিয়ে আয়োজিত সাফের খেলা হয়েছে লিগ পদ্ধতিতে। সবাই সবার সঙ্গে খেলে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দল দুটি ফাইনালে খেলবে। সেই বাধা দূর করে নেপাল ও ভারত আজ ফাইনালে এসেছে। নেপাল প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে মালদ্বীপকে, দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-২ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটছিল। তৃতীয় ম্যাচে নেপাল হার মানে ভারতের (১-০) কাছে। এই ম্যাচ জিততে সুনীলদের ঘাম ছুটে গিয়েছিল। ৮২ মিনিটে সুনীল ছেত্রির গোলে সাফের তৃতীয় ম্যাচে জয়ের মুখ দেখে ভারত। এই ম্যাচ না জিতলে ভারতকে হয়ত বিদায় নিতে হতো। কারণ, প্রথম বাংলাদেশের বিপক্ষে ১-১, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা ভারতের ভাগ্য ঝুলে ছিল। সেই ভারত ঠিকই ফাইনালের টিকিট জোগাড় করে ফেলল।
সব হিসাবের পরও আজকের ফাইনালে ভারতই ফেভারিট। নেপাল প্রমাণ করতে চায় তারা ছেড়ে দেবে না। ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান হলেও ট্রফি না নিয়ে ঘরে ফিরতে চায় না নেপালের কুয়েতি কোচ আব্দুল্লাহ মেজেইদ ফারেয়া মাতার।
