পাথরকোয়ারি বন্ধ রাংপানির রং ফিরছে

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৫

জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা

সিলেটের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত পর্যটনখ্যাত জৈন্তাপুর উপজেলা। প্রকৃতি তার আপন মহিমায় সাজিয়ে তুলেছে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ উপজেলা। আর এ উপজেলার তামাবিল মহাসড়কের পাশে শ্রীপুর এলাকা সবার চেনাজানা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এতটাই ভরপুর, সে জন্যই নাম তার ‘শ্রীপুর’। আর সেখানেই অবস্থান সীমান্তবর্তী একটি নদ ‘রাংপানি’। স্বচ্ছ জলের জন্যই এ নাম। কিন্তু সরকারঘোষিত পাথর কোয়ারির জন্য সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসময় হারিয়ে যায়। পর্যটক যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গত চার বছর ধরে সেখানে পাথর তোলা বন্ধ থাকায় প্রকৃতির নিয়মেই আবার ধীরে ধীরে নিজের রূপ সাজাতে শুরু করেছে শ্রীপুরের রাংপানি। পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমীদের দাবি শ্রীপুর পাথর কোয়ারি আরো কিছু দিন বন্ধ থাকলে এই পর্যটন স্পটটি তার অতীত ফিরে পাবে।

উপজেলার শ্রীপুর পাথর কোয়ারি এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, এক যুগ আগেও স্থানটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত মনোরম পর্যটনকেন্দ্র ছিল। আশির দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের একাধিক ছবির শুটিং হতো নয়নাভিরাম এ নদীতে। ২০০০ সালের শুরুর দিকে শ্রীপুর পর্যটন স্পট থেকে পাথর আহরণ শুরু করে একটি মহল। সরকারও রাজস্ব আদায়ের জন্য শ্রীপুর নদীটি ইজারা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় শ্রীপুরে পাথর কোয়ারির জন্ম হলে পর্যটন স্পটটি বিলীন হয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালের শেষ দিকে এ স্থানে পাথর উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে শ্রীপুর পর্যটন স্পটটি প্রকৃতি তার আপন মহিমায় আবারও সাজিয়ে তুলছে।

ঘুরতে আসা ঢাকা উত্তরার বাসিন্দা গোলজার হোসেন বলেন, শ্রীপুর ঘুরতে না এলে রূপের মহিমাটি কখনো দেখা হতো না। এ স্থানকে সংরক্ষণ করা হলে অসাধারণ পর্যটন স্পট হয়ে উঠবে। জৈন্তাপুর ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি কোয়ারি বন্ধ থাকায় প্রকৃতি নতুন রূপে সাজিয়ে তুলছে তার ক্ষত স্থান। সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে। আরো কিছুদিন কোয়ারিটি বন্ধ থাকলে বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত হবে এটি। স্থানটি সংরক্ষণের দাবি জানাই।

সারী নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি পরিবেশবিদ আব্দুল হাই আল হাদি বলেন, বর্তমানে শ্রীপুরের যে রূপটি ফুটে উঠেছে তাকে ধরে রাখতে হবে। প্রকৃতিকে ধরে রাখতে না পারলে অচিরেই প্রকৃতির বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। উত্তর-পূর্ব সিলেটের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে জৈন্তাপুর চিহ্নিত। সেজন্য প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ না করে বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। প্রকৃতিনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি। এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত আজমেরী হক জানান, দীর্ঘ দিন ধরে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় প্রাকৃতিক নিয়মেই পূর্বাবস্থা ফিরে পাচ্ছে শ্রীপুর। এ স্থানটি আবারও পর্যটন স্পট হিসেবে কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।