‘পুষ্টিকর খাবারের অভাব নেই; কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা কিনতে পারে না’

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৬

দেশে পুষ্টিকর খাবারের অভাব নেই কিন্তু সমস্যা হলো বেশির ভাগ মানুষ তা কিনতে পারে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, কিনতে না পারার কারণ, মানুষের আয় সীমিত। সেজন্য মানুষের আয় বাড়াতে হবে। আর এটি করতে হলে কৃষিকে লাভজনক ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষিজীবী বৃহত্ জনগোষ্ঠীর জীবনমানকে উন্নত করতে হবে।

গতকাল শনিবার বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ভালো উত্পাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’ শীর্ষক কারিগরি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার সকলের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ফসলের ভালো উত্পাদনের জন্য প্রচেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে উত্তম কৃষিচর্চা মেনে উত্পাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি মেনে ফসল উত্পাদিত হলে খাবারের পুষ্টিমান যেমন অক্ষুণ্ন থাকবে তেমনি পরিবেশেরও ক্ষতি হবে না।

ড. রাজ্জাক বলেন, সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি ও উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল উত্পাদনে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

এফএওর মহাপরিচালক কিউ দোংয়ু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, কোভিড মহামারির বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বব্যাপী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি রেজিলিয়েন্ট, ইনক্লুসিভ ও সাসটেইনেবল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) নির্বাহী পরিচালক ড. লরেন্স হাদ্দাদ বলেন, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টি, দারিদ্র্য ও খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনার কারণে অপুষ্টিতে ২০২২ সালের মধ্যে  অতিরিক্ত ১২ মিলিয়ন খর্বাকৃতি শিশু ও ১৩ মিলিয়ন কৃশকায় শিশু যুক্ত হতে পারে। অথচ করোনার আগে দুটোই ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছিল।