জাপানি নাগরিক ফুয়ুমি লিমুরার সংগ্রহ থেকে বেশ কিছু দামি বনসাই চুরি করে নিয়ে যায় একদল বনসাই চোর। তার মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে দামি বনসাইটিও ছিল। এতে হতাশ লিমুরা চোরের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লেখেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার আহ্বান— যিনি তার বাড়ির বাগানে ঢুকে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বনসাই গাছ নিয়ে গিয়েছেন, তিনি যেন নিয়মিত গাছটিকে পানি দিয়ে যত্ন করেন। বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে তার এই বার্তা। খবর সিএনএনের।
লিমুরা বলেন, ‘এ যেন সন্তান হারানোর কষ্টের সমান। গাছটিকে যারা চুরি করেছে তারা যদি ঠিকমতো যত্ন না নেয় তা হলে এত দিনের কঠোর পরিশ্রম জলে যাবে।’
‘আমি শুধু চাই যিনি বনসাই নিয়ে গিয়েছেন তিনি যেন এটাকে নিয়মিত যত্ন করেন এবং পানি দেন। এই সিম্পাকু বনসাইটি ৪০০ বছরের পুরনো। এর নিয়মিত যত্ন ও পানি প্রয়োজন। নিয়মিত যত্ন পেলে এই বনসাই অনির্দিষ্টকালের জন্য বেঁচে থাকতে পারে।’, বলেন গাছটির মালিক।
সিএনএন-এর খবর অনুযায়ী মোট সাতটি বনসাই চুরি গিয়েছে লিমুরাদের বাগান থেকে। তবে সিম্পাকু তার মধ্যে সবচেয়ে দামি ছিল। লিমুরা বলেন, ‘আমরা এই গাছগুলিকে সন্তানের মতো স্নেহ দিয়ে বড় করেছিলাম, এগুলি হারানোর কষ্ট বলে বোঝাতে পারবো না।’

ফুয়ুমি লিমুরার স্বামী সেইজি লিমুরা এই বনসাইগুলির পঞ্চম প্রজন্মের অধিকারী। এগুলো তার পরিবারের বহু প্রাচীন সম্পত্তি। তাদের পরিবার এত যুগ থেকে কার্যত বনসাইগুলির অভিভাবকের দায়িত্বই পালন করে আসছে।
আরও পড়ুনঃ যৌন আকর্ষণ না থাকলে প্রেম হয় না: অঞ্জন দত্ত
সিম্পাকু জুনিপার এখন খুবই বিপন্ন প্রজাতির বনসাই। তাদের খুব কম এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায় বলে বিশ্ব বনসাই ফ্রেন্ডশিপ ফেডারেশন জানিয়েছে।
এত পুরনো এবং দামি গাছগুলিকে কিন্তু লিমুরা দম্পতি লুকিয়ে রাখতেন না। এগুলিকে তারা নিজেদের বাগানে সকলের দেখার জন্যই রেখে দিতেন এবং তেমন কোনোও নিরাপত্তার ব্যবস্থা তারা রাখেননি।
ইত্তেফাক/টিএস

