তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বাইরে যেন কেউ যেতে না পারে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪১

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের পাশ কাটিয়ে কেউ যাতে কিছু না করতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। যারা এই আইনের পাশ কাটিয়ে এসব করছে তাদের সহায়তা না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এন্টি-টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) এবং প্রজ্ঞা আয়োজিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে অগ্রগতি, বাধা ও করণীয় গ্যাটস ২০১৭ এর আলোকে একটি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রে আইনের লঙ্ঘন হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আছে। কিন্তু আমার ধারণা আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। ধূমপান বিরোধী ক্যাম্পেইনের মতো উন্নত জাতি গঠনের জন্য ক্যাম্পেইন করতে হবে, যাতে মানুষের মূল্যবোধ তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে স্মার্টফোনের বিপ্লব হয়েছে। আমরা অবশ্যই প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো নিব। তবে, এর ক্ষতির দিকগুলো নিয়েও ক্যাম্পেইন হওয়া দরকার।’

আরো পড়ুন: পয়লা ফাল্গুনে হোটেলে থেকে ২৯ তরুণ-তরুণী আটক

জীবনে কখনো ধূমপান করেননি উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জীবনে যারা কখনো ধূমপান করেনি তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার উচিত। এতে করে অধূমপায়ীরা উৎসাহিত হবে এবং ধূমপায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে।’

বিশিষ্ট সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর, আত্মার আহ্বায়ক মর্তুজা হায়দার লিটনসহ বিভিন্ন তামাক বিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রজ্ঞার সমন্বয়ক হাসান শাহরিয়ার।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ এর ফলাফল অনুযায়ী ১৫ বছর এবং তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাকের ব্যবহার ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৮.৫% কমেছে। তবে, ২০৪০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এই অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।

অনুষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণে আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, তামাক পণ্যের ব্যবহার কমাতে কার্যকর মূল্য ও কর পদক্ষেপের বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবিলা নিশ্চিত করতে এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ এর আলোকে তৈরি খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন এবং আইনের ঘাটতি পূরণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে এফসটিসি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে আইনের সংশোধন দাবি জানানো হয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ