সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতত্পরতা বন্ধ করতে হবে

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:১২

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতত্পরতা রাষ্ট্রকেই বন্ধ করতে হবে বলে মনে করে বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠন। গতকাল রবিবার পৃথক লিখিত বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতত্পরতায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে ৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।

কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার  নানুয়ার দীঘিরপাড় একটি পূজামণ্ডপে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক একটি ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, গাজীপুরের কাশিমপুর, চৌমুহনী, ফেনীসহ সারা দেশে একাধিক পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর, উত্সবে অংশগ্রহণে হেনস্তা, পরিবার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের  চিহ্নিত  করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানায়।

ছয় দফা দাবি নারীবাদী নেটওয়ার্কের : ছয় দফা দাবি জানিয়েছে নারীবাদী নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে প্রথমত, শারদীয় দুর্গোত্সবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে এবং যারা প্রতিমায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোরআন রেখে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।  দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রধর্মের ধারণা উচ্ছেদ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকবে না। তৃতীয়ত, ধর্মীয় সমাবেশে ভিন্নমতাবলম্বী ও নারীবিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের সংস্কৃতি বিলোপ করতে হবে। চতুর্থত, বিজ্ঞানভিত্তিক একমুখী শিক্ষা পদ্ধতির প্রচলন করতে হবে। মাদ্রাসা, বাংলা মিডিয়াম, ইংরেজি মিডিয়াম ইত্যাদি বহুমুখী শিক্ষা পদ্ধতি থাকবে না। পঞ্চমত, সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন পারিবারিক আইন (ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ষষ্ঠত, নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।