ডেলিভারীম্যান থেকে ২২ গজের নায়ক

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২০:২০

বাংলাদেশ তো দূরের কথা, দুই মাস আগে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট পাড়ায়ও খুব একটা পরিচিত ছিলেন না ক্রিস গ্রিভস। যদিও তার টুইটার ঘাটলে বুঝা ঝায়, স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের নিয়মিত দর্শক তিনি। সেই গ্রিভস ২২ গজের নায়ক হতে সময় নিলেন মাত্র দুই ম্যাচ। যাকে না চাইতেও আজীবন মনে রাখবে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমিরা! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে ৬ রানে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছে স্কটল্যান্ড।

জয়ের পর তাৎক্ষণিক উল্লাস কে না করতে চায়। কিন্তু গ্রিভসের সেই সুযোগটা ছিল ক্ষণিকের, দ্রুতই চলে আসতে হয় ম্যাচ সেরার পুরষ্কার নিতে। প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার অ্যালান উইলকিন্স প্রশ্নে উত্তর দিয়ে গেছেন শুধু ম্যাচ প্রসঙ্গে, নিজের অতীত সম্পর্কে দু'টো শব্দও বলেননি। অবশ্য সেটা আর লুকিয়ে রাখেননি স্কটিশ অধিনায়ক কাইল কোয়েটজার। তা বলতে গিয়ে নিজে যেমন আবেগী হয়েছেন, তেমনি অবাক করেছেন বাকিদেরও।

No description available.

স্কটল্যান্ডে বাস করলেও গ্রিভসের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বাল্যকাল থেকেই। কিন্তু স্কটল্যান্ডের মতো দেশে ক্রিকেটের তেমন কদর নেই। দেশটি সংবাদমাধ্যমেও ক্রিকেটের নামটা চাপায় পড়ে থাকে বাকি খেলাধুলা বিভাগে। টাকা-পয়সা যখন নেই তখন পেট চালানোর তো ভিন্ন কিছু করা লাগে! গ্রিভস সেটাই করেছিলেন।

কয়েকমাস আগে পর্যন্ত এই অলরাউন্ডের পরিচয়টা ছিল ডেলিভারীম্যান হিসেবে। কাজ করতেন বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স প্রতিষ্টান অ্যামাজনের হয়ে। ক্রিকেট বাচিয়ে রাখতে প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাকে।

No description available.

আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটারদের জীবনযাপনটা এরকমই। বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করতে হয় তীর্থের কাকের মতো। কোয়েটজারের কন্ঠে যেন ঝড়ল সেই কথাই, 'গ্রিভসকে নিয়ে আমি গর্বিত। সে প্রমাণ করে দিয়েছে সহযোগী ক্রিকেট দেশগুলোর মধ্যে কিছু মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। তা দেখানোর জন্য শুধু মঞ্চটা দরকার তাদের।'

ওমানে আগে ব্যাট করে ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুকছিল স্কটিশরা। সেখান থেকে মার্ক ওয়াটের সঙ্গে জুটি বেধে দলকে উদ্ধার করেন গ্রিভস। ২৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করে এনে দেন লড়াকু পুজি। বোলিংয়েও সেই গ্রিভসের হাত ধরেই ম্যাচে ফিরে স্কটিশরা। সাকিব-মুশফিক জুটি বিপদ বাড়াচ্ছিল তাদের। আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের দুই স্তম্ভকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এরপর জয়ের রাস্তায় আর কোনো বাধা পায়নি স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ বি'তে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি। তাদের বিপক্ষেই অভিষেক হয়েছিল গ্রিভসের। নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। এই ম্যাচেও তার কাছে একই জিনিসটা চাইবে স্কটল্যান্ড। জিতলে সুপার টুয়েলভসের দিকে এক পা দিয়ে রাখবে তারা। অবশ্য ওমানের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘুরে দাড়াতে ব্যাকুল পাপুয়া নিউগিনি।

ইত্তেফাক/টিএ