সমাজে মানুষের বসবাস। আর প্রতিটি মানুষের নিজের ধর্ম আছে। সবার স্বাধীনতা আছে নিজেদের ধর্মকে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে পালন করা। দুঃখের বিষয়, সমাজে একটি দুষ্টচক্র সব সময় নিজেদের স্বার্থ কায়েম করতে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগায়। তখন এখানে রাজনীতি চলে আসে, বর্ণচোরা সামাজিক ষড়যন্ত্র চলে, গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মানুষের মধ্যে হানাহানি বেড়ে যায়। সত্যকে বিচার করা হয় না। মিথ্যাকে মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মানুষকে যখন ধর্মের আলোকে আলাদা করা হয় তখন সমাজে ধর্মীয় সংঘাত শুরু হয়। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণ থাকে, আমরা যাকে বলি কার্যকারণ সূত্র। যখন কোনো ধর্মকে আঘাত করে কোনো কাজ করা হয়, তখন বুঝতে হবে এর পিছনে কোনো অশুভ কারণ আছে। যারা এই ধরনের কাজ করে তারা কিন্তু নিজেদের ধর্মকেও আঘাত করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। নিজেদের স্বার্থের জন্য নিজের ধর্মকে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে সমাজে সংঘাতের সূত্রপাত করে। বিবেক এখানে বোবা হয়ে যায়। মনুষ্যত্ব পশুত্বে পরিণত হয়। মানুষ তখন অমানুষ হয়ে যায়। সমাজকে মনে হয় পশুদের জঙ্গল। কিছু নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়। এর দায় কে নেবে? প্রশ্নটির উত্তর আমাদের সবার কাছে আছে। কিন্তু আমরা বিবেকের কাছে নিজেদের কর্মের জন্য নিজেকে দায়ী করি না। তাই আমরা নীরব থাকি। সংঘাতময় সমাজে বিবেক ও মনুষ্যত্ব বলে কিছু থাকে না। সমাজে প্রতিটি ধর্মের সুন্দরের আলোর প্রদীপের নিচে আমরা মিলেমিশে থাকতে চাই। আমরা আমাদের সন্তানকে এখন প্রথম যে শিক্ষাটি দিতে চাই তা হচ্ছে—‘তুমি তোমার হূদয়ে প্রতিটি ধর্মকে শ্রদ্ধা করার শিক্ষা লালন কর, যদি তুমি মানুষের সন্তান হয়ে থাকো’।
মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির
দক্ষিণ মধ্যম, হালিশহর,
চট্টগ্রাম
