বাংলাদেশ রেলওয়েতে নির্ধারিত আসনের বেশি টিকিট মূলত ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ হিসেবেই পরিচিত। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় এই স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া বন্ধ আছে। কিন্তু সমস্যা হলো, যে স্বাস্থ্যবিধির অজুহাতে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া বন্ধ, সেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ন্যূনতম বালাই ট্রেনের ভিতরে নাই। প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের দরজা থেকে শুরু করে খাবার গাড়ি পর্যন্ত প্রায় সব জায়গায় যাত্রীরা অবস্থান করে। বিশেষ করে ঢাকায় কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকলে বা যাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে গেলে পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত থাকে না। স্ট্যান্ডিং টিকেট দেওয়া আপাতত বন্ধ থাকায়, নির্ধারিত আসনের বাইরের এই বিশাল অংশের টিকিট কাটার কোনো সুযোগ নেই। এই অতিরিক্ত যাত্রী, যাঁরা টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করছেন, তাঁদেরকে বিনা টিকিটেই ট্রেনে ভ্রমণ করতে হচ্ছে। কালোবাজারিদের ম্যানেজ করেও ট্রেনে ভ্রমণের কথা শোনা যায়। যতটুকু জানি বিনা টিকিটে ভ্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য রেলওয়েতে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষ রয়েছেন। যদি স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটার সুযোগ থাকত, তাহলে হয়তো এদের অনেকেই স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটেই ট্রেনে ভ্রমণ করতেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও কিছুটা হয়তো কমে যেত। তাই বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্ট্যান্ডিং টিকেট চালুর ব্যাপারটা ভেবে দেখলে দেশ ও দশের মঙ্গল হবে বলে আশা করি।
মোহাইমিনুল ইসলাম খান
২৫/খ, গোলাপজান রোড, কাচিঝুলি, ময়মনসিংহ
