সাবেক বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির হাতে ইভ্যালির ভাগ্য

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০২

ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালির ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ এবং অবসায়নে চার সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। ঐ পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে :স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজকে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবীর মিলনকে রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট বলেছে, আদালতের আদেশ প্রাপ্তির পরই এরা (পর্ষদ) বোর্ড মিটিংয়ে বসবেন। ইভ্যালির কোথায় কী আছে সব বুঝে নেবেন। তাদের দায়িত্ব হলো—গ্রাহকের টাকা কোথায় আছে, কোম্পানির দায় কী আছে, তা দেখা। এরপর সবকিছু দেখে যদি বোর্ডের কাছে মনে হয় কোম্পানিটি চলার মতো ক্ষমতা নেই, তখন অবসায়নের জন্য প্রস্তাব করবে। আর যদি বলে চালানো সম্ভব, তাহলে কোম্পানিটি চলবে। আদালত বলেছে, কোম্পানি সংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধের বিচার প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ (হাইকোর্ট) শুধু কোম্পানি সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখবে।

এ প্রসঙ্গে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ইত্তেফাককে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের কপি এখনো পাইনি। মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম আমাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কমিটিতে আরো চার জন সদস্য রয়েছেন। তাদের সঙ্গে বসতে হবে। যদি তারা রাজি হন তাহলে ইভ্যালিকে একটি সফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা করব। তিনি বলেন, যেসব গ্রাহকেরা টাকাপয়সা দিয়েছেন তাদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া যায়, সেই চেষ্টাও করা হবে।

ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে এক গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর দেওয়া ঐ আদেশে বলা হয়, বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনো উপায়ে ইভ্যালির সম্পদে কেউ হাত দিতে পারবে না। সম্পদ হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতেও রুল জারি করে আদালত। এরপরই হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রার ফর জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস ইভ্যালির যাবতীয় নথি দাখিল করে আদালতে। এরপরই পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাবেক সচিবদের নাম দেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। এরপরই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাবেক তিন সচিবের নাম প্রস্তাব করে তা আদালতে দাখিল করে। এরপরই হাইকোর্ট বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করে দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী এন এম মাসুম ও সৈয়দ মাহসিব হোসেন, যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের পক্ষে এ কে এম বদরুজ্জামান ও বাণিজ্য মন্ত্রলায়ের পক্ষে তাপস কান্তি বল শুনানি করেন।

সৈয়দ মাহসিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এই রিট আবেদনে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে ইভ্যালির ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নিতে আবেদন করা হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ পর্ষদ গঠন করে দেয়। এখন ইভ্যালি এই কমিটি কর্তৃক পরিচালিত হবে।