ইট পাথরের এই ব্যস্ত শহরের তরুণ-কিশোররা জানে না, দুরন্তপনা, কী বা কাকে বলে। কারণ, বিদ্যায় বুদ্ধিতে, সর্বোপরি ক্যারিয়ার দৌড়ে প্রথম হতে যেয়ে বিশেষ করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার লক্ষ্য ভেদ করতে যেয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নির্মম মনস্তাত্ত্বিক প্রেসারে স্বাভাবিক শৈশব, কৈশোর এমনকি তারুণ্য হারিয়ে হাইব্রিড প্রজন্মে পরিণত হচ্ছে তারা। পক্ষান্তরে আড্ডাবাজ দুরন্ত ছেলেগুলোই, যারা আপন সিদ্ধান্তে লক্ষ্য নির্ধারণ করে স্বাভাবিক গতিতে প্রেসারবিহীন লেখাপড়া করেছে, তারাই জয়ী হয়েছে। এরকম একজন স্বাধীনচেতা মেধাবী মুশফিকুর রহমান মোহন। ক্রীড়াঙ্গন এমনকি ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে তিনি অনেকেরই চেনাজানা একজন। মুশফিকুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম বিপিএল ক্রিকেট আসরের ‘দুরন্ত রাজশাহী’ টিমের স্বত্বাধিকারী ও চেয়ারম্যান। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন স্পোর্টস ম্যান। সেই কিশোর বয়স থেকেই একজন ক্রীড়াপাগল, সদা হাস্যোজ্জ্বল, চমত্কার ব্যক্তিত্বের মানুষ তিনি। মজ্জায় যার ক্রিকেট, স্কোয়াশ, দাবা ও ব্রিজের মতো অভিজাত খেলাগুলো রয়েছে। শহীদ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক তিনি। দিনব্যাপী ব্যস্ততার এক ফাঁকে প্রজন্মের পক্ষ থেকে বসেছিলাম তাঁর সাথে, জানতে চেয়েছিলাম, এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কীভাবে আগামীর জন্য তৈরি করা যায় সে প্রসঙ্গে। মোহন বলেন, ‘সন্তানদের অতিরিক্ত বিধি-নিষেধ ও টার্গেট ছুড়ে দেওয়া বন্ধ করে তাদের নির্দিষ্ট একটি বয়সে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোতে যুক্ত করতে হবে, সেটা হোক খেলাধুলা কিংবা সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে। একই সাথে তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে চান। এটা কে করবেন? এটা রাজনীতিকদেরই করতে হবে। কারণ দেশের পরিবর্তন বা উন্নয়ন চাইলে সেটা প্রথমে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তথা অবস্থান থেকে রাজনীতিকদেরই করতে হবে। আমার কথায় সচেতন মা, বাবারা হয়তো আঁতকে উঠবেন—লোকটা কী বলে এসব! সন্তানকে রাজনীতিতে যুক্ত করব! আমি বলতে চাই, আজকে যারা রাজনীতি করেন, তারা রাজনীতিকে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং নিজ সন্তানকে দেশের বাইরে না পাঠিয়ে তাকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে হবে। কেননা আদরের সন্তানকে যদি রাজনীতিতে যুক্ত করতে হয় তাহলে স্বীয় গরজেই সুস্থ রাজনীতির প্রচলন তথা পরিবেশ তৈরি করতে হবে আপনাকে। এদিকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ইয়াং জেনারেশন তথা মেধাবীরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করুক। কারণ তিনি চাচ্ছেন বাংলাদেশের রাজনীতি এমন একটি ধারায় উত্তীর্ণ হবে, যা বিশ্বব্যাপী উদাহরণ হবে। আমি মনে করি এটা সম্ভব। তাই আমি আমার এলাকা সিরাজগঞ্জ-০৫ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করে তরুণদের প্রথমে কর্মমুখী করার মাধ্যমে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করব এবং তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলব। আমি নদী ভাঙন প্রতিরোধ, তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং কর্মীবান্ধব যুব সমাজ তৈরি করতে কাজ করছি ও করব।’
মোহন পেশায় মূলত একজন ব্যবসায়ী তিনি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক-ওভারসিস স্ট্যাডি কাউন্সিলিং লি., ডিজিটাল অটো কেয়ার লি. এবং ইম্পোর্টেক্সবিডি। কিশোর বয়সের মতো ব্যবসাজীবন বা কর্মক্ষেত্রেও তিনি অসম্ভব দুরন্ত। দিনমান ব্যস্ততা অফুরন্ত, তবু সবকিছু ম্যানেজ করে অধিকাংশ সময় কাটে ব্যাট, বল, স্কোয়াশ, অথবা ব্রিজ নিয়েই।
