তদন্ত কমিটি

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ২০:১৩

এই সময়ের ছড়া 

অজিতা মিত্র

 

অচিনপুরের রূপকথা আমি শুনিয়েছি কত দিন,

সেই দেশেরই কল্পকাহিনি কান পেতে শুনে নিন।

যদি খুব বড় অন্যায় আর দুর্নীতি ঘটে যায়,

আমজনতার নড়ে যে টনক, করে শুধু হায় হায়!

কেউ শুরু করে হৈ-হুল্লোড়, কেউ প্রতিবাদী হয়,

প্রশাসন বলে, করো তদন্ত, আর কোনো দেরি নয়!

ঘটনার যত বিস্তার ঘটে, কমিটিও হয় বড়,

সদস্যগণ ব্যস্ত ভীষণ, জলদি রিপোর্ট করো।

দুর্ঘটনার তদন্তে যাবে, দেখবে সরেজমিনে,

অনুসন্ধানে ঘুরে পথঘাট, সবকিছু নেবে চিনে!

তদন্ত শেষে লিখে দেবে তারা বড় এক প্রতিবেদন,

সুপারিশ পেয়ে অপরাধীদের হবে কি মুণ্ডু ছেদন?

হতেও তো পারে, সেই আশা নিয়ে কেউ করে যায় কাজ,

কেউ বলে ধুর! কিছুই হবে না, ঘুমিয়ে কাটাই আজ!

প্রয়োজনে আরো বাড়াব সময়, বাড়াব ভ্রমণভাতা,

খাবদাবো বেশ, করব আয়েশ, লিখে দো নয় যা তা।

কেইবা পড়বে, এ রিপোর্ট কবে দেখবে আলোর মুখ?

অগ্নুত্পাত ঘটাবে কি কভু, রিপোর্টের জ্বালামুখ?

রইবে ঘুমিয়ে এ রিপোর্ট শুধু অন্ধকারের মাঝে,

এত ছোটাছুটি এত দৌড়ঝাঁপ আসবে না কোনো কাজে।

না লাগুক কাজে, তবু হওয়া চাই তদন্ত জোরেসোরে,

আমজনতাকে রাখতে ঠান্ডা কৌশল এটা ওরে!

দিন পার হয়, নতুন ইস্যুতে মেতে ওঠে লোকজন,

পুরনো ঘটনা চাপা পড়ে যায়, মনে থাকে কতক্ষণ!

মহার্ঘ সেই রিপোর্ট পেলেই, তালা মারা হয় তাতে,

প্রশাসন কেন সব বুঝেশুনে ছাই দেবে বাড়া ভাতে!

এদিকে ঝুলবে ভুক্তভোগীর সামনে বিশাল মুলো,

ওদিকে তখন আমজনতার চোখে দেবে তারা ধুলো।

প্রেমপত্রের মতোই গোপন থাকবে যে নথিপত্র,

এ কারণে ফের একই অঘটন ঘটবে যত্রতত্র।

এমন দেশের সন্ধান পেলে বলে দিন কানে কানে,

তাহলেই ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে এই গল্পের মানে।