দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘরে হামলায় জড়িদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালন করেছে সাহিত্য একাডেমি। সাহিত্য একাডেমির প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, অশুভ শক্তি ধর্মের মুখোশ পড়ে ধর্মেরই অপমান করে চলেছে।
'সাম্প্রদায়িকতা রুখে দাঁড়ান' স্লোগান নিয়ে মঙ্গলবার(১৯ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংস্কৃতিকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, 'ধর্মের দোহাই দিয়ে যে সাম্প্রতিক তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তারা তো ধার্মিক নয়। তারা ধর্মের মুখোশ পড়ে মূলত ধর্মেরই অপমান করে চলেছে। এই অপশক্তিকে যদি রুখে না দাঁড়ানো যায়, তবে এই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক থাকবে না। সেখানে আমরা কেউ নিরাপদ থাকবো না। সাহিত্য একাডেমিতে ধন্যবাদ জানাই, তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করছে। দেশের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আহবান জানাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যেন রুখে দাঁড়ায়।'
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, 'বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সহাবস্থানে বসবাস করবে। আমাদের সম্প্রীতি যারা বিনষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে।'

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, 'যারা আমাদের শত বছরের সম্প্রীতি নষ্ট করতে হিংস্র থাবা বসায় তাদের প্রতিহত করতে হবে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান হিসেবে এবং সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই সমাবেশে পূর্ণ সংহতি জানাই।'
এছাড়াও বক্তারা বলেন, 'নদীর যেমন ধর্ম থাকে না৷ গাছের যেমন ধর্ম থাকে না৷ রাষ্ট্রেরও ধর্ম থাকে না। রাষ্ট্র সকল ধর্মের মানুষের। ধর্ম থাকবে মানুষের হৃদয়ে। ধর্মকে অপব্যবহার করে কোনো হানাহানি চায় না। আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে সব রকম অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।'
ইত্তেফাক/এএইচপি
