নাচোলে মাঠে নেই বিএনপি
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
নাচোল উপজেলা পরিষদের নির্বাচন তৃতীয় ধাপে আগামী ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতারা মাঠ চষে বেড়ালেও মাঠে নেই বিএনপি। স্বতন্ত্রভাবেও তারা নির্বাচনে আসবে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি বিএনপি নেতারা। এদিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দিলেও ভাইস ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ায় এ দুই পদে একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন।
নাচোল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ছয় নেতা দলীয় মনোনয়নের আশায় আবেদন করেছিলেন। এরা হলেন— বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও নাচোল পৌর আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য মজিবুর রহমান, নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান বাদল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম বাবু, নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম বারেকি এবং নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শোভন। ছয় নেতাই ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে মজিবুর রহমান, সাইদুর রহমান বাদল, রেজাউল করিম বাবু এরই মধ্যে গণসংযোগে নেমে পড়েছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিএনপি নির্বাচনে না এলে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মজিবুর রহমান ও রেজাউল করিম বাবুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির কেউ নির্বাচনে এলে তার সঙ্গে আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আর না এলে মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় আমি আবারো নির্বাচিত হবো।’
রেজাউল করিম বাবু বলেন, ‘আমি নাচোলবাসীর সেবা করার জন্যই ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছি। আর তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগকালে আমার প্রতি দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সাড়া আমাকে নির্বাচন করার সাহস জোগাচ্ছে। আমার আশা, সাধারণ মানুষ আমাকেই ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী করবে।’
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন নেত্রী আবেদন করেছিলেন। এরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রঞ্জনা রানী, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতুন নঈম মুন্নি এবং নাচোল উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা শামীমা ইয়াসমীন লিপি। এরই মধ্যে গণসংযোগে নেমে পড়েছেন জান্নাতুন নঈম মুন্নি ও শামীমা ইয়াসমীন লিপি। জয়ের ব্যাপারে দুইজনই শতভাগ আশাবাদী। মুন্নী বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে মাঠে রয়েছি, আপদে-বিপদে মানুষের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি।’ লিপি বলেন, ‘আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার বাবা প্রয়াত বেলাল উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কাণ্ডারি ছিলেন। আমিও দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। আমার বিশ্বাস, সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও আগামী নির্বাচনে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।’ রঞ্জনা রানীও নির্বাচন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও বিএনপির কাউকে মাঠে দেখা যায়নি। স্বতন্ত্রভাবেও কেউ নির্বাচন করবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুল হক বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। তবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সংকেত পেলে বলা যাবে, কারা প্রার্থী হবেন।’
