আনন্দ পট

মোমবাতি হারিয়ে যায়নি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১৪

 

যে যুগে বিদ্যুত্ ছিল না, সন্ধ্যার পরপর সেই সময়ে ঘরে ঘরে মোমবাতি জ্বলত। আমার কিশোরকাল কেটেছে মোমবাতির আলোতে। এখনো কিন্তু বিদ্যুত্ চলে গেলে মোমবাতি জ্বালানো হয়।

মোমবাতি যে কোনো উত্সব বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের অন্যতম উপাচার। কিন্তু মোমবাতির সবচেয়ে বেশি চাহিদা দীপাবলি বা কালীপুজোর রাতে অন্ধকার দূর করতে। জন্মদিন উপলক্ষ্যে মোমবাতির গুরুত্বও কম নয়। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ বছর আগে থেকে মোমবাতির ব্যবহার শুরু হয়। আগে মোমবাতি নামে ব্যবহার না হলেও প্রথমদিকে মশাল, আলোকদীপিকা বলা হতো। তারপর ধীরে ধীরে মোমবাতি নাম হলো।

আমাদের দেশে ১৮৯২-৯৩ সালে মোমবাতি তৈরি শুরু হয়। এরও অনেক পরে বিশ শতকের গোড়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মোমবাতির কারখানা চালু হতে থাকে। সেসব কারখানা আকারে ছোট ছিল।  প্রথম দিকে অবাঙালিরাই মোমবাতি ব্যবসায় জড়ায়। প্রথমদিকে যে মোমবাতি তৈরি হতো, ঐসব মোমবাতির প্যাকেটের ওপর লেখা থাকত ‘মেড অ্যাট বার্মা’।

একসময় বাংলাদেশে কয়েক হাজার মোমবাতি তৈরির কারখানা গড়ে উঠল। এখন সংখ্যাটা অনেক কমে গেলেও ছোট শিল্প হিসাবে মোমবাতিশিল্পের বাজার যথেষ্ট ভালো। কম পুঁজিতে এই ব্যবসা করা যায়। গত কয়েক বছরে সাধারণ মোমবাতির পাশাপাশি বাহারি মোমবাতির ভালো বাজার তৈরি হয়েছে। নানা ধরনের মোমবাতির মধ্যে এখন ভালো চাহিদা—জল মোমবাতি, লম্বা চতুষ্কোণ মোমবাতি, নারকোল মালায় মোমবাতি, প্লাস্টিকের পাত্রে মোমবাতি, বালি মোমবাতি, বনজ মোমবাতি, ধাপ মোমবাতি, ভাসমান মোমবাতি, ঝাউগাছ মোমবাতি, লম্বা ত্রিকোণ মোমবাতি, ছক্কা মোমবাতি, হার্ট মোমবাতি ইত্যাদি।

লিয়াকত হোসেন খোকন