আইপিএলে ব্যাটিংয়ে ছন্দ ছিল না। বল হাতেও মুন্সিয়ানা দেখাতে পারছিলেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজ টুর্নামেন্টে পারফরম না করতে পারার অস্বস্তি, ক্লান্তি নিয়েই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে যোগ দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দেশের হয়ে বড় মঞ্চে নামতেই যেন সেই আগের রূপে ধরা দিলেন তিনি। ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরলেন তিনি। বাংলাদেশের জয়ের নায়কের আসনটা যেন তার জন্যই বরাদ্দ। ব্যাটে-বলে বরাবরের মতোই অপ্রতিরোধ্য, চ্যাম্পিয়ন সাকিব।
টানা তৃতীয় আসরে টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের বৈতরণী পার হয়ে গেল বাংলাদেশ তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই। তিন ম্যাচেই দুরন্ত ধারাবাহিক সাকিব। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ১৭ রানে নেন ২ উইকেট, ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে ২০ রানের ইনিংসে অবশ্য তার সংগ্রামটাই বেশি চোখে পড়েছে। ওমানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২৯ বলে ৪২ রান করেছেন, যেখানে স্বাগতিক বোলারদের তৈরি করা চাপের দুর্গ ভেঙেছেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে। বোলিংয়ে ২৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। অনুমিতভাবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার।
গতকাল পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ম্যাচেও চেনা দৃশ্যে হাজির সাকিব। তিনে নেমে ৩৭ বলে ৪৬ রান করেছেন তিনি। সহজাত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনই ধসিয়ে দিয়েছেন। ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট এ বাঁহাতি স্পিনারের ঝুলিতে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক সাকিব। এবং ম্যাচ সেরাও তিনি। বিশ্বকাপে যত ম্যাচ খেলছে তাই ছন্দে ফিরছে বাংলাদেশ, সাকিব এমনটাই মনে করেন। স্কটিশদের কাছে হেরে তৈরি হওয়া চাপ কমে গেছে। সুপার-১২ পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। তাই খুশি সাকিব, ‘প্রতিটি ম্যাচ থেকেই আমরা আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি। প্রথম ম্যাচটা অবশ্যই বড় ধাক্কা ছিল। কিন্তু টি-২০ ফরম্যাটে নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলা দলটাই জিতে। কিন্তু এখন চাপ কমে গেছে। আমরা মন খুলে খেলতে পারব।’
সর্বশেষ ১১ দিনে মরুর বুকে ৬টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। যার মধ্যে আইপিএলে ৫ দিনে ৩টি, বিশ্বকাপে ৬ দিনে ৩টি ম্যাচ। তাই ক্লান্তি ছুঁয়ে যাচ্ছে ৩৪ বছর বয়সি এ ক্রিকেটারকে। ফর্মে ফেরা এবং টানা খেলার ক্লান্তি সম্পর্কে গতকাল সাকিব বলেছেন, ‘এই ফরম্যাটে ফরমে ফেরা সহজ নয়। সৌভাগ্যক্রমে আমি ওপরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাচ্ছি। কিছুটা ক্লান্ত, আমি গত ৫-৬ মাস টানা ক্রিকেট খেলছি, আমার লম্বা মৌসুম চলছে। আশা করছি আমি টুর্নামেন্টটা শেষ করতে পারব।’
টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি
বোলার দেশ উইকেট
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ৩৯
শহিদ আফ্রিদি পাকিস্তান ৩৯
লাসিথ মালিঙ্গা শ্রীলঙ্কা ৩৮
সাঈদ আজমল পাকিস্তান ৩৬
অজন্তা মেন্ডিস শ্রীলঙ্কা ৩৫
উমর গুল পাকিস্তান ৩৫
