বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবেই ধরা হয় মুশফিকুর রহিমকে। মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের বড় ভরসা তিনি। ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ তকমা ঝোলে তার নামের পাশে। ওয়ানডে ও টেস্টে ২২ গজের লড়াইয়ে বারবারই সেটি ব্যাট হাতে প্রমাণ করেছেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটের খুদে সংস্করণে মুশফিকের ব্যাট যেন ‘অচেনা পথিক’। এ ফরম্যাটে রানখরার মাঝেই দিন কাটছে তার।
প্রতিপক্ষ যেমনই হোক, ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারছেন না। দেশে ও দেশের বাইরে বদলাচ্ছে না মুশফিকের ব্যাটিংয়ের হাড্ডিসার চিত্র। এমনকি অদ্ভূতুড়ে সব শট খেলে আউট হচ্ছেন সাম্প্রতিক সময়ে, যা তার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের কাছে খুবই অপ্রত্যাশিত। মিডল অর্ডারে দলকে যথাযথ সার্ভিস দিতে পারছেন না।
তাই প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে, এই ফরম্যাটে ৩৪ বছর বয়সি মুশফিক আদৌ কতটা অপরিহার্য বালাদেশের ব্যাটিং লাইনে? গত ১৫ বছর ধরে টি-২০ খেলছেন তিনি। গতকালের ম্যাচসহ ৯৪টি ম্যাচ খেলেছেন। গতকালের আগ পর্যন্ত ব্যাটিং গড় ১৯.৭৮। ৯৪ ম্যাচে ৫টি হাফ সেঞ্চুরিতে ১৩৭০ রান করেছেন তিনি। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে গতকাল ৮ বলে ৫ রান করে আউট হয়েছেন মুশফিক। বিশ্বকাপে আগের দুই ম্যাচে ৪৪ রান করেছিলেন। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৬ বলে ৩৮ রান করেছেন। সেট হয়েও দলের প্রয়োজনের সময় উইকেট ছুড়ে এসেছেন।
সবচেয়ে অবাক করা ছিল যে, মুশফিক স্কটিশদের বিরুদ্ধে স্কুপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছিলেন, যখন দল আশা করছিল তিনি এগিয়ে নেবেন দলকে। ম্যাচের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও বলেছিলেন, মুশফিকের আউট ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। সেট ব্যাটসম্যান টিকে থাকা দরকার ছিল। ওমানের সঙ্গে করেছিলেন ৬ রান। শুধু বিশ্বকাপ নয়, বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে মুশফিকের ব্যাটে রান ছিল না। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫ ম্যাচেই ফ্লপ ছিলেন। সাকল্যে ৩৯ রান করেছিলেন, যার মধ্যে দুই ইনিংসে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
মুশফিকের প্রয়োজনীয়তা টি-২০ দলে ক্রমেই কমে আসছে। যেমনটা তার হাত থেকে কিপিং গ্লাভস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। ওমানের বিরুদ্ধে তো ৮ নম্বরে ব্যাটিং করতে হয়েছে মুশফিককে। ব্যাটিংয়ে তার আত্মবিশ্বাস যে তলানিতে তা স্পষ্ট। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পর এ ফরম্যাট থেকে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সরে দাঁড়ালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
