কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলা কারো প্ররোচনা ছিল বলে বিশ্বাস করি :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০২

কুমিল্লার সহিংসতার হোতার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যক্তিটি কার প্ররোচনায়, কার নির্দেশে কীভাবে এ কাজ করল সে তো প্ল্যানমাফিক করেছে, আপনারা দেখেছেন। এটা নির্দেশিত হয়ে বা কারো প্ররোচনায় এটি করেছে বলে আমরা মনে করি। তাকে ধরতে পারলে বাকি সবকিছুই আমরা উদ্ধার করতে পারব বলে মনে করছি।’ দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার হোতাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চিহ্নিত করেছে। এখন তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার করতে পারলেই খুলবে সব রহস্যের জট।

সচিবালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হোতার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার যে টার্গেট, আমি আগেই বলেছি, আমরা সুনিশ্চিত যে লোকটি করেছে, ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে তাকে আমরা চিহ্নিত করেছি। একটি মাজারের সঙ্গে যে মসজিদ দেখা গেছে সেখানে সে গিয়েছে। এক বার-দুই বার নয়, তিন বার গিয়েছে। সেখানে মসজিদের দুই জন খাদেম ছিলেন, তাদের সঙ্গে সে কথা বলেছে। ‘আমাদের অভিজ্ঞ টিম দীর্ঘক্ষণ এটা অ্যানালাইজ করে সুনিশ্চিত হয়েছে, মসজিদ থেকে কোরআন এনেছে, এটি তারই কর্ম।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যতটুকু দেখেছি সে (কোরআন) নিয়ে আসছে এবং মণ্ডপের মধ্যে রেখে মূর্তির গদাটি সে কাঁধে করে নিয়ে আসছে। এ ব্যক্তিটি কার প্ররোচনায়, কার নির্দেশে কীভাবে এ কাজ করল সে তো প্ল্যানমাফিক করেছে, আপনারা দেখেছেন। এটা নির্দেশিত হয়ে বা কারো প্ররোচনায় এটি করেছে বলে আমরা মনে করি। তাকে ধরতে পারলে বাকি সবকিছুই জানতে পারব।’

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল হোতা কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন না বলে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেছেন, এর ফলে তার অবস্থানও জানা যাচ্ছে না। মন্ত্রী বলেন, ‘সে কোনো মোবাইল ব্যবহার করছে না। যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারাও লুকিয়ে রাখতে পারেন। আমরা তাকে বের করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছি।’ এর আগেও সারা দেশে যেসব সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে সেসব ঘটনার মামলার কার্যক্রম সাক্ষীর অভাবে শেষ করা যাচ্ছে না বলে ব্রিফিংয়ে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। রামুর তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে, সেখানে কেউ সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন না। নাসিরনগরে একটি ছাড়া সব মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেখানেও কেউ সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন না। যেটুকু বাকি আছে সেটা খুব শিগিগরই শেষ হবে।

দুর্গাপূজার সময়টায় সহিংসতার পর পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে বলেও দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘আমি তো বলব, এখন আর আতঙ্ক নেই। ঢাকা শহরে কোথায় আতঙ্ক আছে? কুমিল্লাতেও কোনো আতঙ্ক নেই। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমি বলব, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটিয়েছে এবং এরপরে আকস্মিকভাবে যেগুলো হয়েছে। পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ শান্ত আছে। যে যার যার কাজে চলে গিয়েছে।’