ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় স্বামী ওবায়দুল হক টুটুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত টুটুল ফেনী শহরের বারাহিপুর এলাকার গোলাম মাওলা ভূঞার ছেলে।
রায়ের পর মামলার বাদী গৃহবধূর বাবা সাহাব উদ্দিন জানান, ‘আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক, এখন এটাই প্রত্যাশা।’ আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘একমাত্র আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ রায়ে ক্ষুব্ধ। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
সূত্র জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ১৫ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে ওবায়দুল হক টুটুল। ঐ দিনই তাহমিনার বাবা সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ১১ নভেম্বর মামলার একমাত্র আসামি টুটুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ফেনী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ইমরান হোসেন। ১৫ ডিসেম্বর চার্জ গঠনের পর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৯ অক্টোবর আলোচিত এই হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পিপি হাফেজ আহাম্মদ ও বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু। আসামিপক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার। যুক্তিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার টুটুলকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত।
