জীবন থেকে শিখতে হবে

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪০

মুক্তা আক্তার

আমরা দৈনন্দিন জীবনে হাজার হাজার ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ঘটনাসমূহ আমরা গ্রহণ করি আর বাকি সব সময়ের স্রোতে রোজ হারিয়ে যায়। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ব্যস্ততম মানব জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনার কিছু শিক্ষণীয় অর্থ থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষণীয় বিষয়গুলো অবহেলা করে স্বাভাবিক ঘটনাগুলোকে আরো সাধারণ করে মেনে নেই। অথচ একটু বুদ্ধির সাহায্য নিয়ে দৈনন্দিন এই সহজ-সরল বিষয়গুলো থেকে জটিল সমস্যার সুরাহা করা সম্ভব।

আমরা সকলেই কম-বেশি সিনেমা দেখি অথচ তা থেকে শিক্ষা নেওয়া দর্শকের পরিমাণ খুবই কম। শুধু বিনোদনের জন্য না দেখে যদি সিনেমা থেকে শিক্ষা নেবার বিষয়টি বড় করে দেখা যায় তবে সত্যিকার পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে যাবে আমার বিশ্বাস। বিষয়টি সহজ করে দেয়া যাক।

মনে করুন, আপনি প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য ইন্টারনেটে ঘুরে ফিরছেন। আপনার সম্পূর্ণ অনিচ্ছায় কিছু অশ্লীল ভিডিও কিংবা ছবি আপনার সামনে চলে আসতে পারে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আমাদের এই ঘটনা শিক্ষা দেয় যে, পরিবার কিংবা নিজেদের কর্তৃত্বের মাঝে থাকা অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের অবাধে ইন্টারনেট ব্যবহার করার অনুমতি প্রদানে  বাধা দেবার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সাধারণত কোনো ব্যক্তি আমাদের উপকার করলে আমরা ধন্যবাদ দেয়া কিংবা যেকোনো উপায়ে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চেষ্টা করি। অনেক দিনের প্রচলিত এক সামাজিকতা হিসেবে ধন্যবাদের বহিঃপ্রকাশ, সে তো পুরোনো কথা।

চলুন, আজ থেকে ‘ধন্যবাদ’ শব্দটির পরিবর্তে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমি যখনি সুযোগ পাবো “তিনজন” মানুষের সাহায্য করব, আর ঐ তিনজনকে বলব তারা যেন প্রত্যেকে তিনজনকে সাহায্য করে, এরপর তাদের প্রত্যেকে তিনজন করে করে সংখ্যাটি ভেবে দেখুন।

আর এভাবেই সমাজে ভালো কাজের একটি চক্র প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হলে তা ভালো মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্যে রোজ বাড়তে থাকবে।

বই পাগল মানুষগুলো ঘন্টার পর ঘণ্টা বইয়ে মুখ গুঁজে পরে থাকতে পারে। শুধু পারে নয়, আসলে বইপোকা মানুষগুলোর এভাবে থাকতে ভালো লাগে। একটি বই সম্পন্ন করার পর আমরা পরবর্তী একটির খোঁজে ব্যস্ত হয়ে যাই। বই পড়ার পাশাপাশি যদি সে বইয়ের সারমর্ম ও শিক্ষা ব্যক্তিগত এবং অন্যদের জীবনে ছড়িয়ে দেয়া যায় তাতে প্রযুক্তির প্রতি অতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা সম্ভব।

টেলিভিশনে প্রকাশিত ধারাবাহিক নাটকে গল্পাকারে মানুষের বাস্তব জীবনের ঘটনাপ্রবাহ আরো বেশি সাজিয়ে-গুছিয়ে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। আমরা এসব অতিরঞ্জিত ধারাবাহিক জীবনের সাজানো গল্প দেখে বিমোহিত হই, কখনো যুক্তিতর্ক ভুলে আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। কোরিয়া কিংবা জাপানের সম্প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক দেখলে জীবনে কর্মচঞ্চল হবার অনুপ্রেরণা পাওয়া, জীবনের বাধাগুলো অতিক্রম করে সামনে চলার কৌশল সম্পর্কে শিক্ষা নেয়ার পাশাপাশি শেখার আরো অনেক বিষয় থাকে। টেলিভিশনের রিমোট আপনার হাতে, শেখার ইচ্ছেটা চ্যানেল ঘুরিয়ে আপনাকেই শুরু করতে হবে।

 এ রকম প্রতিটি সাধারণ ঘটনা থেকে কিছু কিছু অন্তর্নির্হিত শিক্ষা আমরা নিজ ও সমাজের  জন্য খুঁজে বের করতে পারি। আপনার-আমার সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়াও কিন্তু সমাজ প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। অন্যকে কিংবা সম্পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থাকে দোষারোপ করার মধ্যে নয়, সত্যিকার পরিবর্তন আসবে নিজ  নিজ স্থান থেকে সক্রিয় পরিবর্তনের মাধ্যমে। সমাজ আপনা আপনি নয় বরং মানুষেরই সৃষ্টি। তাই বখে যাওয়া সমাজের সঠিক সুরাহা করা  সভ্য মানব সমাজেরই দায়িত্ব।

পরিবর্তন হোক ব্যক্তিগত শিক্ষা অর্জনের মধ্য দিয়ে যা নিজ পরিবার ও সমাজের জন্য নিশ্চয়ই সুফল বয়ে আনবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়