লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন খালের অংশে পানি না থাকায় ধান উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বোরো ধান বপনের পর এক মাস সময় অতিক্রম করলেও পাউবোর খালে পানি না থাকায় মৌসুমের শুরুতেই দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক।
সরজমিনে উপজেলার চন্ডীপুর, ইছাপুর, নয়নপুর, নারায়নপুর, শ্রীরামপুরসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়—আবাদি জমিগুলো পানি সংকটে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বোরো ধানগাছগুলো লালচে রং ধারণ করে প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে চাষিরা উপজেলা কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে পানি সংকট সমাধানের জন্য লিখিত আবেদন করেছে।
এ ব্যপারে চন্ডীপুরের কৃষক তাকদীর হোসেন বলেন, আমি এ বছর এনজিও সমিতি থেকে লোন নিয়ে ১২০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান রোপণ করি। কিন্তু খালে পানি সরবরাহ না থাকায় সব ধানগাছ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে।
নয়নপুরের কৃষক ইমাম মোল্লা, আনোয়ার মোস্তান, হানিফ মোস্তান বলেন, ৩৩০ শতাংশ জমিতে ধারদেনা করে বোরো ধানের চাষ করেছি, কিন্তু পানির অভাবে ধানগাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে দেনা পরিশোধ করব সে চিন্তায় আছি। কৃষক সিরাজুল হক, কাশেম, বাবুল, জানান—অভাব-অনটনের মধ্যেই ধার-দেনা করে বোরো আবাদ করেছি, কিন্তু খালে পানি না থাকায় ধানগাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টার জানান, স্থানীয় কৃষকদের বেহাল দশা দেখে পাউবোর খালে পানি সরবরাহকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছি।
৪নং ইসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে আমি ইউএনও-র কাছে অভিযোগ দিয়েছি এবং চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে আমি বিস্তারিত বলেছি। তারা এ সমস্যাটি সমাধানের ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানবীর আহমেদ সরকার বলেন, এ বছর এ প্রকল্পের অধীনে দুই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ও ১২শ হেক্টর জমিতে রবি শস্য আবাদ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। পানি সংকট সমাধানের জন্য চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি।
চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, আমরা এখন ১৮ ঘণ্টার স্থলে ২২ ঘণ্টা সেচ পাম্পগুলো চালু রাখি। এরপরেও পাউবো’র খালের রামগঞ্জ অংশে কেন পানির সংকট তা সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছে।
