আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে নানা জটিলতা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২১:১৬

ইত্তেফাক ডেস্ক

দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রায় সব ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জটিলতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, আগামী ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার তিতাসের ৯ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ৯ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। এর বাইরে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের ১৭ জন নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতানী ইউপিতে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন সাতানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক সরকার। এখানে বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান। জগতপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কাইয়ুম ও সহসভাপতি গোলাম মাওলা। বলরামপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূরনবীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান সরকার। কলাকান্দি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহারের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. ইব্রাহিম সরকার। ভিটিকান্দি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মো. বাবুল আহমেদের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. এখলাস উদ্দিন ও কুমিল্লা (উত্তর) জেলা কৃষক লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ফারুক সরকার। নারান্দিয়া ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান ভূঁইয়ার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. সালাহউদ্দিন, উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ইসমাইল সরকার, জিয়ারকান্দি ইউপিতে দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলী আশরাফের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন। এদিকে বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. মোমিনুর জাহান জানান, বাদ পড়া প্রার্থীরা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তির সময় পাবেন। ২৬ অক্টোবর প্রত্যাহার ও ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা শেখ তানভীর আখতার স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের খাউলিয়া ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আব্দুল হাই খানের নির্বাচনি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় কমপক্ষে সাত জন আহত হয়েছে। এ বিষয়ে ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও প্রার্থীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।