সাইফ স্পোর্টিং ২:১ মোহামেডান
স্পোর্টস রিপোর্টার
মোহামেডানকে হারিয়ে সাইফ স্পোর্টিংয়ের খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তারা ততক্ষণে স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু তাদের পাশে মোহামেডানের ডাগআউটে তখনো আছেন ফুটবলার মিন্টু শেখ, এমিলি, মিঠুন, মিশু, সোহাগ, ইউসুফ সিফাত, গোলকিপার সারোয়ার জাহান, পাশবন মোল্লা, জাবেদ, ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু। একা অন্যদিকে কোচ আলী আজগর নাসির। সংবাদ মাধ্যম ঘিরে ধরল মোহামেডান কোচকে। নানা প্রশ্নে জর্জরিত করলেও উত্তর মিলল না। তারা জানতে চাইলেন কেন টানা চতুর্থ হার। কেন দ্বিতীয় জয়ের মুখ দেখছে না মোহামেডান। মাঠে নামার আগে মিলাদ হয়, দোয়া করানো হয়। ম্যানেজার ইমামতি করেন। প্রশ্ন উঠল মাঠে নামার আগে একাদশ চূড়ান্ত করেন কে? তিনজন ফুটবলার বদলানোর সিদ্ধান্ত কার।
কোচ আলি আজগর শেষ দুটি প্রশ্নে নিশ্চুপ। কোচ প্রতি হারের পরই একই কথা বলছেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি। গোল করতে না পারলে কি করে হবে।’ সেই পুরনো কথা, ‘আমার এই খেলোয়াড় নেই। ওই খেলোয়াড় নেই।’ কোচেরই বা কি করার আছে। মোহামেডান আগে খেলোয়াড় নিয়েছে পরে কোচ নিয়োগ দিয়েছে। কোন পজিশনে খেলোয়াড় দরকার আর কোন পজিশনে দরকার নেই তা না ভেবেই মোহামেডান দল গড়েছে। বাধ্য হয়ে যা আছে তা নিয়েই লড়াই করছেন কোচ।
প্রথম ম্যাচে বিজেএমসিকে হারিয়ে টানা চার হারে ক্লান্ত মোহামেডান কোচ। অপেক্ষায় রয়েছেন কবে বিরতি হবে। নতুন করে কিছু খেলোয়াড় পরিবর্তন করার কথা জানাবেন কোচ। নাসির বললেন, ‘মিন্টু শেখের বাবা মারা গেছেন। জাপানি ফুটবলারের ইনজুরি। যারা ছিল তারাও গোল মিস করেছে। অপনেন্ট বেটার, আমরাও খারাপ খেলেছি।’ হারের পরও কোচ আশায় বুক বাঁধছেন কোচ, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে ঘুরে দাঁড়াবে।’
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাইফের বিপক্ষে মোহামেডান কাল ১১ মিনিটে গোল হজম করে। রাশিয়ান ফুটবলার বলশাকভ দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করেছেন ১-০। গোলকিপার সারোয়ার জাহানের ভুলের সুযোগ নেন চতুর এই রুশ ফুটবলার। গোলের পর আবারো এই গোলকিপারের ভুলের মাশুল দিতে যাচ্ছিল মোহামেডান।
গোলরক্ষক সারোয়ার জাহান সাইফ স্পোর্টিংয়ের কোরিয়ান ফুটবলার সিউনগিল পার্ককে ফেলে দিলে পেনাল্টি দেন রেফারি। গোল করার জন্য বলকাশভ বল বসালেও কোরিয়ানটি এসে শট নেন। বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোরিয়ান ফুটবলার সে ক্ষতি পুষিয়ে দেন গোলের সুযোগ গড়ে দিয়ে। ৪৭ মিনিটে কোরিয়ান পার্ক গোল করালেন কলম্বিয়ান ড্যানিয়ের আন্দ্রেস করডোভাকে দিয়ে ২-০। এরকম পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়লেও ৬৭ মিনিটে আমির হাকিম বাপ্পী গোল করে (২-১) খেলায় ফেরানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু অতটুকুই।
মোহামেডানের এই হারের পরমুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্ষেপ করে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘মোহামেডানের সমর্থকরা এখন আর কাঁদে না, বিলাপ করে না বা হা-হুতাশ করে না। শুধু মাঝে মাঝে পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করে চোখ মুছে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে।’
আজকের খেলা : নোফেল ও বিজেএমসি। ৩টা, শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম, নোয়াখালী। বসুন্ধরা কিংস ও রহমতগঞ্জ। ৩টা, শেখ কামাল স্টেডিয়াম, নীলফামারী।
