নিঃস্ব হচ্ছেন
অনেকে
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প তৈরি করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে
মো. ছালাহউদ্দিন, মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা
মনপুরায় মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। এতে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। মেঘনার ভাঙনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটন স্থান, বাজার, মসজিদ, মন্দিরসহ কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পর্যটনের আকর্ষণীয় স্থান মনপুরা ফিশারিজ, নাইবেরহাট বাজার, হাজির হাট ইউনিয়নের সোনারচর, চরজ্ঞান, দাসের হাট, মনপুরা ইউনিয়নের পুর্বকুলাগাজী তালুক, সীতাকুণ্ড, ঈশ্বরগঞ্জ গ্রাম, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারহাট বাজারসংলগ্ন পশ্চিম পাশ, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
বুধবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাজির হাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার সংলগ্ন পূর্ব-পশ্চিম পাশে মেঘনার ভাঙনে কেবলই ভেতরে ঢুকছে। নাইবেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান মুক্তিযোদ্ধা আ. লতিফ ভূঁইয়া বাড়িসহ অধিকাংশ গ্রাম মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিড়পাড়, মাছুয়াখালি, কাচারির ডগি, সম্পূর্ণ এবং ঈশ্বরগঞ্জ মৌজার অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টার হাটবাজারসংলগ্ন পশ্চিম পাশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাস্টার হাটবাজার সংলগ্ন ব্রিজটিও বিলীন হওয়ার পথে। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব পাশ ও রহমানপুর গ্রাম মেঘনার ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। হাজির হাট ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. নিজামউদ্দিন হাওলাদার বলেন, মনপুরাকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কাজ করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, মেঘনার ভাঙ্গন রোধে ইতিমধ্যে উত্তর মাথায় নদীর তীররক্ষা প্রকল্প কাজ আমরা শেষ করেছি। উত্তর মাথায় আমরা ব্লক ও ড্যাম্পিং করেছি।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো নির্মাণ করেছি। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ীভাবে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ‘ভোলা জেলার মুজিব নগর ও মনপুরা উপজেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ’ নামে ১১৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই স্থায়ীভাবে নদীভাঙনের হাত থেকে মনপুরাকে রক্ষা করতে পারব।
