আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবগুলোতে সাড়া জাগানো বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘নোনা জলের কাব্য’ আগামী ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মুক্তি পাচ্ছে। নিউ ইয়র্কে চলচ্চিত্রে পড়াশোনা করে প্রথম এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। প্রথম চলচ্চিত্রেই বোদ্ধা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে চলচ্চিত্রটি। সবচেয়ে বড় খবর চলচ্চিত্র উত্সবের গণ্ডি পেরিয়ে ‘নোনাজলের কাব্য’ এবার যাচ্ছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন COP26-এ। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ এই আসরে ২৯ অক্টোবর আইম্যাক্স থিয়েটারে দেখানো হবে ‘নোনাজলের কাব্য’। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশগ্রহণ করবেন।
লন্ডন, বুসান, গুটেনবার্গ, সাও পাওলো, তুরিন, সিয়াটেল, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উত্সবে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘নোনাজলের কাব্য’। বাংলাদেশে এ ছবির পরিবেশক স্টার সিনেপ্লেক্স। প্রযোজনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ও ফরাসি প্রযোজক ঈলান জিরার্দ। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন লস অ্যাঞ্জেলসে বসবাসরত থাই শিল্পী চানানুন চতরুংগ্রোজ। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ছবিটির নির্মাণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান অমিতাভ রেজার হাফ স্টপ ডাউন। সম্পাদনা করেছেন আমেরিকার ক্রিস্টেন স্প্রাগ, রোমানিয়ার লুইজা পারভ্যু ও ভারতের শঙ্খ। শব্দ ও রঙ সম্পাদনার কাজটি হয়েছে প্যারিসের দুটি বিখ্যাত স্টুডিওতে। আবহ সংগীত পরিচালনা করেছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব।
গতকাল শনিবার ঢাকা ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চিত্রপরিচালক অমিতাভ রেজা, অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, তিতাস জিয়া, তাসনোভা তামান্না, সায়ান চৌধুরী অর্ণব ও ছবিটির পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত।
দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জেলেদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার লড়াই এবং তাদের সামাজিক রীতিনীতি ও সংস্কার এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয়। সমাজ, সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং পরিবেশের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন বলে জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে চিত্রনাট্যের জন্য এই ছবি পেয়েছে ‘স্পাইক লি রাইটিং গ্রান্ট’। ২০১৭ সালে ছবিটি বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদান পেয়েছিল ৫০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে ৮০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিল ফরাসি সরকারের সিএনসির ‘সিনেমা দ্য মন্ড’ ফান্ড থেকে। ২০২০ সালে ছবিটি টরিনো ফিল্ম ল্যাব অডিয়েন্স (টিএফএল) ডিজাইন ফান্ড ২০২০ জিতেছে। এ ফান্ডের আওতায় পেয়েছে ৪৫ হাজার ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৫ লাখ টাকার সমান। এ অর্থের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটিকে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের সিনেমা হলে পৌঁছে দিতে কাজ করছে এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
অমিতাভ রেজা বলেন, এই ছবিটা সারা বিশ্বের অনেক বড় বড় নির্মাতা ও প্রতিষ্ঠান ঘুরে বাংলাদেশে এসেছে। অনেক জায়গা থেকে চলচ্চিত্রের মান দেখিয়ে সে ফান্ড পেয়েছে, এটা খুব সহজ কথা না। ফজলুর রহমান বাবু বলেন, সিনেমাটিতে বিদেশি অনেক টেকনিক্যাল মানুষজন আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।
