বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
সর্বশেষ ২০১০ সালের ২১ ও ২২ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এসেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ওইদিন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল মতিন ও সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ওবাদুল হক নাসিরসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। তারপর দীর্ঘ নয় বছর কেটে গেলেও রাজনীতির আতুড়ঘর খ্যাত এই মধুর ক্যান্টিনে আসা হয়নি ছাত্রদলের। অবশেষে দীর্ঘ ৯ বছর পর গতকাল বুধবার ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আসে ছাত্রদল। এসময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তাদের অসন্তুষ্টির কথা তুলে ধরেন।
এছাড়া ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল সহাবস্থান নিশ্চিত সাপেক্ষে তিন মাস পিছিয়ে পুনঃতফসিলের দাবিও জানান। তবে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ বরাবরের মতই নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানও মধুর ক্যান্টিনে আসেন। অন্যদিকে ছাত্রদল মধুর ক্যান্টিনে আসার আগ থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধুর ক্যান্টিনে স্বাগত জানান।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় ডাকসু নির্বাচন, সহাবস্থান এবং সার্বিক বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। এসময় সহাবস্থান এক বা দুইদিনে দৃশ্যমান হয় না জানিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হলে আগামী তিন মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক রাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে। এসময়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো যদি রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তবে সহাবস্থান প্রাথমিক ধাপে উন্নীত হয়েছে বলে আমরা ধরে নেব। অন্তত এটুকু সহাবস্থান নিশ্চিত করে ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এসময় মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাসসহ অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিল। গত বৃহস্পতিবার ২০১০ সালের পর প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল ও বড় ধরনের শোডাউন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
