ভরসা জোগাচ্ছে নাঈমের ব্যাট

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৬

স্পোর্টস রিপোর্টার, শারজাহ থেকে

ইনিংসের শুরুতে প্রচুর ডট বল খেলেন। পাওয়ার প্লের ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতায়ও অনেক সময় শান্ত থাকে তার ব্যাট। তার স্ট্রাইক রেট নিয়েও উচাটান আছে সবার। নাঈম শেখকে নিয়ে তাই আশা-নিরাশার দোলাচল বিশ্বকাপেও অব্যাহত ছিল।

তামিম ইকবাল না থাকায় ওপেনিং নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না বাংলাদেশ দলের। বিশ্বকাপে এসে তা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। লিটন দাসও রানে নেই। সবমিলিয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তনটা যেন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের নামান্তর ছিল।

প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে তাই অনায়াসেই টিম ম্যানেজমেন্ট একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলেছিল নাঈম শেখকে। যদিও এ সিদ্ধান্তের জন্য প্রচুর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল কোচ-অধিনায়ককে। দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে ফিরেই ব্যাটিংয়ে আস্থা জুগিয়েছিলেন নাঈম শেখ। ওমানের সঙ্গে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এ বাঁহাতি ওপেনার। পরের ম্যাচে রানের খাতা খুলতেই পারেননি।

গতকাল মূল পর্বের প্রথম ম্যাচে আবারও হাসল নাঈমের ব্যাট। শারজাহ স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ২২ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান। এটি বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। ৫২ বলে ৬টি চারে ৬২ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। যার ফলেই বাংলাদেশের স্কোরটা দেড় শ ছাড়িয়েছে। নাঈমের সঙ্গে মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরিটাও ছিল দুর্দান্ত।

তবে ইনিংস শুরু করতে এসে ১৭তম ওভারে আউট হয়েছেন নাঈম। যেন তামিমের ভূমিকাই পালন করছেন এ তরুণ। ইনিংসটা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তামিমের অভাব পূরণের কাজটাই করছেন তিনি। অ্যাংকরের ভূমিকায় মানিয়ে যাচ্ছে নাঈমের ব্যাটিং। ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে খেলে যাচ্ছেন তাতে। লিটনের দ্রুত বিদায়েও দল বড় বিপদে পড়ছে না। নাঈম এক প্রান্তে থাকায় সাকিব-মুশফিকরা এসে নিজেদের সহজাত খেলাটা খেলতে পারছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে তিন ম্যাচে দুটি হাফ সেঞ্চুরি চাট্টিখানি কথা নয়। ব্যাট হাতে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন নাঈম। গতকাল শারজাহ স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ের সময়টাও উপভোগ করেছেন তিনি। শারজাহর গ্যালারি মেতে উঠেছিল ‘নাঈম, নাঈম’ স্লোগানে। নিজের শক্তির বাইরে কিছুই খেলেননি নাঈম। পুল, লং অন দিয়ে তুলে মারা, লেট কাটের মতো শটেই খেলে গেছেন। 

পাওয়ার প্লেতে নাঈমের ব্যাটের নিষ্প্রভতা অনেকের পছন্দ নয়। বিশেষ করে টি-২০র সঙ্গে বেমানান মনে হয়। তবে নাঈমের কাছে দলের চাওয়া শুরুতে উইকেট পতনের ধারা ঠেকানো। যে দায়িত্ব এ তরুণ ঠিকঠাকভাবে পালন করে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে নাঈমের কাছে এমন ধারাবাহিকতাই দেখতে চাইবে দল ও সমর্থকরা।