সবুজ শ্যামল সমারোহে ঘেরা ছোট একটি দেশ। নাম বাংলাদেশ। মুক্তমনে মুক্ত হাওয়ায় সতেজ নিশ্বাস ফেলি নির্বিঘ্নে। প্রথমত, এই দেশ আমাদের মাতৃভূমি। দ্বিতীয়ত, লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি এই দেশ। এখানে বসবাস করে বিভিন্ন প্রকৃতির মানুষ। বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন গোষ্ঠী, যেমন মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি একজন মুসলিম। বন্ধু হিসেবে হিন্দু আছে, খ্রিষ্টানও আছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলতে হয় বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে। সেখানে থাকে মুসলিম-হিন্দু-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ। আড্ডা হয়। আড্ডাতে কথা হয়। ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করা হয়। খোঁজখবর নেওয়া হয়। কারণ হলো, আমরা তো মানুষ। হয়তো-বা ধর্মের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারি, তবে আমরা রক্তে-মাংসে-আকৃতিতে এক। তবে পার্থক্য হলো এটাই যে, ধর্ম—অর্থাত্ একেক জনের ধর্ম একেক। যার সঙ্গে চলি বা কথা বলি সে হয়তো হিন্দু, খ্রিষ্টান অথবা বৌদ্ধ। আমার অসুবিধা এবং বিপদে সে এগিয়ে আসবে, তার অসুবিধা আর বিপদে আমি এগিয়ে আসব। তবে এমনটা না হয়ে সাম্প্রতিক কালে কিছু দুষ্কৃতকারীরা তাদের নিজস্ব ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে কিছু সহজ সরল ধর্মপরায়ণ লোকদেরকে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে উসকে দিয়েছে। তারপর যা ঘটার তা আমাদের সকলের সম্মুখে দৃশ্যমান।
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করা খুব খারাপ ব্যাপার। জ্বালাও-পোড়াও এসব কোনো ধর্মে নেই। নেই মানুষ ধরে মারা, মানুষ হত্যা করা। প্রত্যেকটা ধর্ম শান্তির ধর্ম। ধর্ম মানুষকে ধার্মিক বানায়। ধর্ম মানুষকে মনুষ্যত্ব শেখায়। অমানুষ থেকে মানুষে পরিণত করে। ধর্ম কখনো মানুষকে অমানুষে পরিণত করে না। তবে সাম্প্রতিক কালে যারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে, ধর্মে-ধর্মে বিবাদ লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, তারা মূলত ধার্মিক নয়। তারা কোনো ধর্মে দীক্ষিত নয়। তারা দুটি দলের ভেতরে সংঘাত লাগানোর চেষ্টা করছে। এদেরকে ধরে ধরে চিহ্নিত করতে হবে। এবং আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। যেন পরবর্তীকালে যে কেউ এরকম কোনো ঘটনা ঘটানোর আগে হাজার বার চিন্তা করে নেয়। আমরা চাই, আমাদের জন্মভূমিতে আমরা শান্তিতে বসবাস করি। প্রাণ খুলে নিশ্বাস নিই। কারণ দেশটা পেয়েছি লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। শান্তিতে বসবাস করব, যেখানে ধর্মে ধর্মে কোনো অসম্প্রীতি থাকবে না। থাকবে না কালো সাদার ভেদাভেদ। নির্বিঘ্নে চলাফেরা করব। আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব বহুদূর। বিশ্বের কাছে দেশটাকে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরব। এটা শুধু একজনের দ্বারা সম্ভব নয়, এক ধর্মের দ্বারা সম্ভব নয়। সব ধর্ম-বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে একযোগে কাজ করতে হবে। একত্র হয়ে কাজ করতে হবে। যদি এটা আমরা করতে পারি, তাহলে সারা বিশ্বের কাছে আমরা আমাদের দেশকে রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে পারব। আজ পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের ‘সবার সুখে’ কবিতাটি খুবই মনে পড়ছে।
‘সবার সুখে হাসব আমি,/ কাঁদব সবার দুঃখে।/ নিজের খাবার বিলিয়ে দেব/ অনাহারীর মুখে।/ আমার বাড়ীর ফুল-বাগিচা/ ফুল সকলের হবে।/ আমার বাড়ীর মাটির প্রদীপ/ আলোক দিবে সবে।/ আমার বাড়ী বাজবে বাঁশি/ সবার বাড়ী সুর।/ আমার বাড়ী, সবার বাড়ী/ রইবে না কো দূর।’
n শিক্ষার্থী : জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
