দেশে গত একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে ২৭৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১ জনই ঢাকা জেলার। অর্থাত্ সারা দেশে মোট শনাক্তের তিন চতুর্থাংশই ঢাকার। একই সময়ে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত আক্রান্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯২ জনে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৩৮৬ জন। তাদের নিয়ে এই পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠলেন ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৩২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর আগের দিন শনিবার শনাক্তের হার ছিল ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তার আগের দিনে শুক্রবার রোগী শনাক্তের হার ছিল ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৯৯টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৮৫টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ২২ হাজার ১৫০টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৭৬টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৪টি।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পুরুষ তিন জন আর নারী ছয় জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৮১৭ জন আর নারী মারা গেলেন ১০ হাজার ছয় জন। একদিনে মৃতদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে এক জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে তিন জন আর ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন এক জন। মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ছয় জন। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে দুই জন আর সিলেট বিভাগে মারা গেছেন এক জন। অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন আট জন আর বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এক জনের।
এদিকে করোনা প্রতিরোধী টিকা নিতে চেয়ে নিবন্ধন করেও যারা এসএমএস পাননি তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম গতকাল অনলাইন বুলেটিনে বলেন, ‘যাদের এখনো এসএমএস আসেনি তাদের অবশ্যই ধৈর্যসহ অপেক্ষা করতে হবে।’ অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম জানান, দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৫ কোটি ৫২ লাখেরও বেশি মানুষ, তাদের মধ্যে ২ কোটিরও বেশি মানুষ দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করেছেন। তবে যাদের নিবন্ধন হয়েছে, মোবাইল ফোনে এসএমএস এসেছে, যথাসময়ে তারা টিকা গ্রহণ করবেন।
