বইমেলার আয়োজন করে শ্লাঘা অনুভব করে থেমে থাকলেই চলবে না

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৮

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক

বইমেলা খুব সুন্দর হচ্ছে। দিন দিন বইমেলার কলেবর বাড়ছে। বই প্রকাশের সংখ্যা এবং মান দুটোই বাড়ছে। বাংলা ভাষার চর্চাও হচ্ছে। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। মানুষের মুখে মুখে এ ভাষা থেকে যাবে। একে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। জন্ম জন্মান্তর ধরে বাংলা ভাষা টিকে      থাকবে। মানুষ এই ভাষায় হাসবে কাঁদবে। কিন্তু এতেই কী আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়ে যাবে?   বাংলা ভাষায় যদি গবেষণা প্রবন্ধ, দর্শন লেখা না হয়, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এবং তাদের পরবর্তী বংশধরেরা যদি বাংলায় লেখাপড়া, তাদের ভাবনার বিকাশ বাংলাকে ঘিরে না করে তাহলে ভাষার বিকাশ ঘটবে না। শুধু মাতৃভাষা হয়ে থাকলেই ভাষার বিকাশ হয় না। সে জন্য নিজ ভাষায় লেখাপড়া, আইন-আদালতে ভাষার চর্চা জরুরি। আমরা ভাষা আন্দোলনের মূল যে প্রত্যাশা—সেই সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে পারিনি। ইংরেজি মাধ্যমে আমাদের যে শিশুরা লেখাপড়া করছে তাদের ভাবনার বিকাশ ঘটে ইংরেজি ভাষাকে অবলম্বন করে। ফলে দেশে একটি বড় শ্রেণি যারা উচ্চশিক্ষা নিতে পারে তারা বাংলা ভাষা থেকে বিযুক্ত হচ্ছে। এটা আশংকাজনক একটি বিষয়।

সুতরাং, বইমেলার আয়োজন করে আমাদের শ্লাঘা অনুভব করে থেমে থাকলেই চলবে না। আমাদের ভাষার বিকাশে আরো নানামাত্রিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে, বইমেলায় যেসব বই প্রকাশিত হচ্ছে সেসব বইয়ের মান কেমন সেটাও বড় বিষয়। মানসম্পন্ন বই নির্ভর করে কিছু মানদ্লের ওপর। প্রথমত বইটির লেখায় নতুন চিন্তাধারা ও সৃজনশীলতার উন্মেষ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত বইটি নির্ভুল ও সুসম্পাদিত হতে হবে। উত্কৃষ্ট রচনার পাশাপাশি প্রকাশক, সম্পাদক, প্রচ্ছদশিল্পী, কম্পোজিটর, প্রুফ রিডার, মুদ্রাকর ও বাঁধাই কারিগরের মতো নানাজনের যৌথ প্রয়াসে একটি মানসম্পন্ন বই প্রকাশিত হয়। গ্রন্থমেলায় অসংখ্য বইয়ের ভিড়ে প্রকৃত পাঠক স্টল-প্যাভিলিয়নে ঘুরে ঘুরে খুঁছে নিচ্ছেন মানসম্পন্ন বই। তবে, অনেক সময় তারা বিভ্রান্ত হয়। তাই মানসম্মত বই প্রকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের।                                                                                           লেখক- প্রাবন্ধিক ও গবেষক