নটরডেম কলেজ ছাত্রের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে নটর ডেম কলেজের এক ছাত্রের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রের নাম ইয়োগেন হেনছি গোন সালভেজ (২২)। তিনি নটর ডেম কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্র। মঙ্গলবার রাতে কদমতলার একটি বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল সকালে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় গোপন করে নতুন বাসায় ভাড়া উঠেই খুন হন ইয়োগেন। তার বাবার নাম ম্যাকলিন গোন সালভেজ। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম কোতয়ালী থানার পাথরঘাটায়। নতুন বাসায় ওঠার আগে  ইয়োগেন মামাতো বোন শ্রিপার সঙ্গে পুরান ঢাকার নারিন্দায় থাকতেন। তবে কারা কী কারণে তাকে খুন করেছে এবং কেন তিনি পরিচয় গোপন করে নতুন বাসা ভাড়া নিলেন সে বিষয়ে জানাতে পারেনি পুলিশ ও পরিবার।

গতকাল লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ময়নাতদন্তে পিঠে ও পেটে ১৫টি ছুরিকাঘাতের চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের ভগ্নিপতি রোমেন পিনারু জানান, শিপ্রা বাসায় না থাকায় শুক্রবার গুলশানের নদ্দায় বোন ডালিনের বাসায় যায় ইয়োগেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে কলেজে যাওয়ার জন্য ওই বাসা থেকে বের হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় ফোন করা হয়। কিন্তু কয়েকবার রিং হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানতে পারেন কদমতলার ৯ নম্বর রোডের ৭৭/এ নম্বর বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে তার লাশ পাওয়া গেছে। ইয়োগেন কিছুদিন আগে রবি কল সেন্টারে চাকরির জন্য ট্রেইনিং করছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না।

বাড়ি মালিকের মেয়ে জানান, কয়েকদিন আগে ভাই-বোন পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ইয়োগেন। এরপর মঙ্গলবার ইয়োগেন বাসা পরিষ্কার করার জন্য চাবি নিয়ে যান। বাসা পরিষ্কারের পর চাবি ফেরত দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু রাত ১০টা পর্যন্ত চাবি ফেরত না দিলে বাড়ি মালিকের মেয়ে ঐ ফ্ল্যাটে গিয়ে বেডরুমের মেঝেতে ইয়োগেনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার ভোরে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বোন ডালিন সিল গুনন সালভোজ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই কামরুজ্জামান বলেন, লাশের পাশে একটি অর্ধেক জুসের বোতল ও কয়েকটি খালি বোতল পাওয়া গেছে। এছাড়া মেঝেতে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়েছিল।