রাণীনগরে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গাছিরা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫৭

কার্তিকে শীতের আগমনী বার্তায় রাণীনগরে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। তবে দিন দিন খেজুরের গাছ কমে যাওয়ায় রসের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।

উপজেলার রেল লাইনের দুই পাশে তাকালেই চোখে পড়ে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ। শুধু রেললাইন নয়, গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ততা বেড়েছে গাছিদের। শীতের সকালে মুড়ি দিয়ে খাওয়ার জন্য অনেকেই গাছিদের কাছ থেকে এই রস কিনে নেন। আর অবশিষ্ট রস দিয়ে গাছিরা রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা ও পাটালি গুড় তৈরি করেন।

শীত যতবেশি পড়বে ততবেশি মিষ্টি রস হবে। একটি গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস-গুড়-পিঠা-পুলি ও পায়েস খাওয়ার ধুম। নাটোরের লালপুর উপজেলা থেকে আসা গাছি কালাম মিঞা ও তার সহকর্মীরা জানান, আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতিবছরই রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে চার মাসের জন্য গাছ ভেদে পাঁচ থেকে সাত কেজি করে খেজুরের গুড় দিয়ে লিজ নিই।

ছবি: ইত্তেফাক

তবে বর্তমানে চাহিদামতো খেজুর গাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় পর্যাপ্ত গুড় তৈরি করতে পারি না। তারপরও এ বছর দুই শতাধিক খেজুর গাছের মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেছি। বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে না দিয়ে জীবন-জীবিকার জন্য এই পেশা ধরে রেখেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। এজন্য মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।

তবে এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে খেজুর গাছ রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।

ইত্তেফাক/এএএম