বই নিয়ে স্বপ্নযাত্রা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩৯

একটা সময় ছিল যখন মানুষ অবসর সময়ে বই পড়ত। নানা বিষয়ে, নানা ধরনের বই পড়ত। সপ্তাহে কর্মব্যস্ততার মাঝে একটু সময় পেলেই বই নিয়ে ব্যস্ত  থাকতেন; বইয়ের মাঝেই যেন নিজেকে খুঁজে নিতেন। কিন্তু প্রযুক্তির উত্কর্ষে হাতে হাতে মোবাইল ফোন এসে যাওয়ায় মানুষ এখন অবসর সময়ে বই বাদ দিয়ে মোবাইল ফোনকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে। কিন্তু  মোবাইল ফোনের শত ফাংশনের পরও একশ্রেণির  বইপ্রেমী রয়েছেন, যারা বই পড়েন এবং বইয়ের শিক্ষামূলক দিকগুলো অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সদা ব্যস্ত থাকেন। তেমনি একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী জয়। 

জয়ের পুরো নাম মো. আসাদুজ্জামান জয়। অবশ্য  বইপ্রেমীদের কাছে জয় নামেই পরিচিত। ২০১৮ সালের দিকে দুজন সহপাঠীকে নিয়ে ‘এই পৃথিবী বইয়ের হোক’  স্লোগানকে ধারণ করে গড়ে তুলেন ‘পিয়ন’ নামে প্রতিষ্ঠান। যেখান থেকে দেশের আনাচে-কানাছে পৌঁছে দেওয়া হয় পাঠকের পছন্দমতো বই। বই নিয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয় বলেন, ‘২০১৮ সালের দিকে একদিন নীলক্ষেত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। এত এত বই দেখে নিজের কাছে মনে হলো—আমার যদি এরকম একটা বইশপ থাকত! তখনি মাথায় আইডিয়া এলো—  বুকশপ দিব। সেদিন বাসায় এসে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিলাম—বই নিয়ে আমার সঙ্গে কেউ কাজ করতে চান? আমার দুই বন্ধু আগ্রহী হয়। ব্যাস, এ দুজনকে নিয়ে মোট ছয় হাজার টাকায় শুরু করে দিলাম বইয়ের শপ পিয়ন।’

বর্তমানে পিয়ন দেশের বড় অনলাইন বুকশপগুলোর একটি। দেশে হাজার হাজার লাইব্রেরি থাকলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত বইয়ের সংগ্রহ। আবার কখনো লাইব্রেরি  এতটাই দূরে যে দৈনন্দিন কাজকর্ম সেরে অনেকের পক্ষে লাইব্রেরিতে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না; এই দায় মিটাচ্ছে পিয়ন। পাঠক ঘরে বসেই যেকোনো ধরনের বই পেয়ে যাচ্ছে খুব সহজে। একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেমন কঠিন, আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন, সংযোজন বা নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করে টিকিয়ে রাখাও নিশ্চয়ই চ্যালেঞ্জিং বিষয়।  এমন প্রশ্নে জয় বলেন, ‘হ্যাঁ, তা অবশ্যই ঠিক। এমন ভাবি না যে, রাতারাতি বইয়ের ব্যবসা করে কিছু একটা হয়ে যাব বা করে ফেলব। আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল  মানুষের হাতে যেন কম দামে বই পৌঁছায়। আর নতুন করে যেন একটা পাঠকশ্রেণি তৈরি হয়। আমি এমন একটি টিম পেয়েছি যারা খুবই পরিশ্রমী। ফলে আমাদের কাজ খুব সহজেই এগিয়ে যাচ্ছে।’