এনবিআর থেকে ফাইল গায়েব

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৮

দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এবং অবৈধ পথে ব্যাংকের অটোমেটেড ট্রেলার মেশিন বা এটিএম আমদানি করছিল একটি অসাধু চক্র। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই টনক নড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) বাংলাদেশ ব্যাংকের। বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় তারা। এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করতে কার্যক্রম গ্রহণ করে। এর মধ্যে সময় অনেক গড়িয়ে গেলেও তদন্তকাজ শেষ হয়নি বরং তদন্তের জন্য যে ফাইল খোলা হয়েছিল সেটিই গায়েব হয়ে গেছে তাদের অফিস থেকে। এতবড় শুল্ক ফাঁকির ঘটনার তদন্তের ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়াকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি অসাধু চক্র এটিএম আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য গোপন করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। এনবিআরের খাতায় যেসংখ্যক এটিএম আমদানির তথ্য রয়েছে ব্যাংকগুলোর চালু থাকা এটিএম বুথের সংখ্যা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। মূলত শুল্ক ফাঁকি দিতেই অবৈধ পথে এটিএম আমদানি করা হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর এনবিআর এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক পৃথকভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বাংলাদেশে কী পরিমাণ এটিএম মেশিন আমদানি করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংককে চিঠি দেয়। ব্যাংক এবং আমদানিকারকরা অধিদপ্তরকে এ চিঠির জবাবও দিয়েছিল। প্রায় তিন বছর আগে এ নিয়ে চিঠি চালাচালি হলেও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শেষ হয়নি। এর মধ্যে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন জায়গায় বদলি হয়ে গেছেন। গত দু’দিন ধরে অধিদপ্তরের বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে দৈনিক ইত্তেফাকের কথা হয়। অধিদপ্তরের বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল হাকিম ইত্তেফাককে বলেন, ফাইলটি পাওয়া যাচ্ছে না। দুদিন ধরে আমি খুঁজেছি। ফাইলটি কীভাবে গায়েব হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি।

এদিকে শুল্ক ফাঁকি এবং হিসাবের বাইরে এটিএম আমদানির বিষয়টি উদঘাটন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকও উদ্যোগ নেয়। সেখান থেকেও বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের তদন্ত রিপোর্টও এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মোট এটিএম বুথের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ হাজার। এর মধ্যে মাত্র দুই হাজার মেশিনের আমদানির তথ্য ছিল এনবিআরের কাছে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তত্কালীন মহাপরিচালক মইনুল খান ইত্তেফাককে বলেছিলেন, যে পরিমাণ এটিএম মেশিন আমদানির তথ্য রয়েছে তার চেয়ে বেশি এটিএম ব্যাংকগুলো চালু রেখেছে। এক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকি এবং মুদ্রা পাচারের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি এখন বদলি হয়ে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন।