৭টি ক্যাটাগরিতে ১০০টি অ্যাওয়ার্ড

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডের নিবন্ধন শুরু

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৪৮

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর উদ্যোগে ৭ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০২১। যার বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডে আগ্রহী ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান বুধবার (২৭ অক্টোবর) থেকে নিবন্ধন করতে পারবে, যা চলবে আগামী ১১ই নভেম্বর পর্যন্ত।

বুধবার বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০২১ এর আহ্বায়ক ও বেসিস পরিচালক রাশাদ কবির বেসিস অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আয়োজন ও প্রস্তুতিবিষয়ক নানা দিক তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, সব নিয়ম মেনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হলে, বিচারকদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে যাচাই বাছাই করে দুইটি ভাগে মোট ১০০টি পুরষ্কার প্রদান করা হবে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে থাকবে ২০ টি পুরষ্কার এবং ব্যক্তি পর্যায়ে থাকবে ৮০টি পুরষ্কার। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান বিভাগে ৫টি, স্টার্টআপ বিভাগে ৫টি এবং এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স বিভাগে ১০টি পুরষ্কার থাকবে। আর ব্যাক্তি পর্যায়ে  ৬৪ জেলায় ৬৪ জনকে, ব্যক্তি নারী বিভাগে ৬ জনকে এবং আউটসোর্সিং প্রফেশনাল বিভাগে সেরা ১০ জনকে পুরষ্কার প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে বেসিস এর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০২১ এর উপদেষ্টা ফারহানা এ রহমান ই আয়োজনে মুলত আউটসোর্সিং ক্যাটাগরি ও এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স দুই ক্যাটাগরিকে প্রাধান্য দিয়েই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে। এরমধ্যে এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড তারাই পাচ্ছে যারা ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেন্টিভ পায়। কোন দেশ থেকে টাকা আসতেসে, কেমন সার্ভিস  এক্সপোর্ট করছে, কি পরিমান টাকা আসতেসে, এই সব ডকুমেন্ট সাবমিট করেই কিন্তু বেসিস থেকে একটা সার্টিফিকেট তুলতে হয়। যেটা অন্যান্য ডকুমেন্টের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে তবেই   এই ১০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেন্টিভ পাবে। যেহেতু এই লম্বা প্রসেসের মাধ্যমে এই ক্যাশ ইনসেন্টিভ পাচ্ছে তাদেরকেই আসলে এই এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

নারীদের ঘরে বসে অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের বিষয়ে উৎসাহিত করে তিনি আরো বলেন, যেভাবে প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে আমাদেরও সেভাবে দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে যারা কাজ করছেন তাদেরকে দৃশ্যমান করা ও স্বীকৃতি প্রদান, রপ্তানিতে তাদের অবদান তুলে ধরা, ব্যক্তিগতভাবে যারা ফ্রিল্যান্সিং করছেন তারা যাতে কোম্পানি তৈরির মাধ্যমে উদ্যোক্তা হতে পারেন সেটাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ জিয়া আরফিন, বাংলাদেশের পরিবেশকে যদি একটু গভীর ভাবে লক্ষ করা যায়, তাহলে দেখা যাবে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান অনেক প্রখর। তাই তথ্যপ্রযুক্তিখাতের এমন সব আয়োহজনের সঙ্গে আমরা সব সময় সংযুক্ত থাকতে চাই। 

জিয়া আরফিন বলেন, আমরা ২০১২ সালে প্রথম অনলাইন রেমিটেন্স আনতে গেটওয়ে চালু করি। যেখানে প্রথমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট মেথড পেয়জা দিয়ে শুরু হয়। পরবর্তীতে সেখানে আমরা পেওনিয়ারের সাথে যুক্ত হই। ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র ব্যাংক এশিয়ায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আয় করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক এশিয়া প্রায় শুরু থেকেই প্রতিবছর বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি বিশ্বাস করি এ আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে তেমনি দেশের প্রায় সকল জেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় অনলাইন আউটসোর্সিং-এ যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করবে। 

অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা নিত্য নতুন প্রযুক্তির ব্যাবহারকেও প্রায়োরিটি দিবো। কারণ, যারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, থ্রিডি এনিমেশন এগুলো নিয়ে কাজ করছেন নাকি এসইও করছে সেটাকে লক্ষ রেখে আমরা গ্রুরুত্ব দিবো।

তিনি আরও বলেন, সরকার ২০২৫ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইতিমধ্যে এ খাতে অর্জিত আয়ের উপর ১০% নগদ প্রণোদনা চালু করেছে। তিনি এই নগদ প্রণোদনা ২০%-এ উন্নীত করার অনুরোধ জানান। 

আলমাস কবির বলেন, নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য সরকারের সাথে বেসিস একাত্ম হয়ে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে নতুন নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে যেসব বিষয়ে ইতিমধ্যে আমাদের দেশীয় সফটওয়্যার ও সফটওয়্যার পরিষেবা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এ ব্যাপারে বেসিস সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। কারণ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণে বেসিসের পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। 

এবারের বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডের প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে থাকছে ব্যাংক এশিয়া এবং সহযোগিতায় আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ। বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০২১ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ও নিবন্ধন করতে এই লিঙ্ক https://outsourcingaward.basis.org.bd/ ব্যবহার করতে সকলকে অনুরোধ করা হয়। 
 

ইত্তেফাক/আরকে