‘রঙ আর অভিনয় নিয়ে পারফরম্যান্স করতে চাই’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২০:০৯

 

থিয়েটারে শারমিন ইতি’র পথচলার শুরুটা সুবচন নাট্যদলের সঙ্গে। সেখান থেকে এখন বটতলায়। থিয়েটারের দীর্ঘ পথচলায় অভিনয়, শিল্প নির্দেশনা, মঞ্চ পরিকল্পনা, নাটকের আবহ সংগীতসহ নানা কাজ করেছেন। পড়াশোনা করেছেন চিত্রকলা বিষয়ে। অভিনয় করছেন টেলিভিশন ও মঞ্চে। অভিনয়ের পাশাপাশি তার সখ ও স্বপ্নের জায়গা হলো চিত্রকলা। তার আঁকা ছবি নিয়ে দেশ-বিদেশে বেশকিছু  চিত্রপ্রদর্শনী হয়েছে। থিয়েটার ও ছবি আঁকা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহবুব আলম

থিয়েটার ও চারুকলায় শুরুটা কীভাবে?

আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে থিয়েটার দল সুবচনে যোগ দেই। যখন সবাই এইচএসসি’র ভর্তি কোচিংয়ের জন্য  তৈরি হয় তখন আমি থিয়েটার শুরু করি। টানা পাঁচ বছর সেখানে কাজ করি; এরপর দু বছর বিরতি দিয়ে বটতলা থিয়েটারে যোগ দেই। এখন কাজ করছি বটতলার সঙ্গে, আমার প্রাণের জায়গা আমার থিয়েটার দল। আর আমার পড়ালেখা সম্পন্ন করেছি ইউডা চারুকলা থেকে। বিএফএ ও এমএফএ শেষ করেছি চিত্রকলা নিয়ে। ছবি আঁকা আমার কাছে নেশার মতো। ভালো লাগে তাই ছবি আঁকি। আমার কাছে মনে হয় যে কথাগুলো মুখে বলা যায় না তা প্রকাশ করা যায় ছবি এঁকে। সেই ভাবনা থেকেই চারুকলায় শুরু।

থিয়েটারে দীর্ঘ অভিনয় অভিজ্ঞতার পর অনেকেই একক অভিনয় করছেন। আপনার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা কতটুকু?

প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীর স্বপ্ন থাকে এমন চরিত্রে কাজ করতে—যাতে দর্শক তাকে মনে রাখে। সেই কাজটি দলগত হতে পারে কিংবা একক। তবে আমি মনে করি,  একক অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে জাহির করা যায় ঠিকই কিন্তু, অভিনয়ের পরিপক্বতা বা অভিজ্ঞতা তেমন না থাকলে দর্শকের মনোগ্রাহী হওয়া যায় না। তবে আমার একটা পরিকল্পনা আছে, আমি আমার রঙ আর অভিনয়কে একসঙ্গে নিয়ে পারফরম্যান্স করতে চাই। তবে সেটা কবে  বা কতদিন পরে করব সেটা এখনো ঠিক হয়নি।

আপনি একইসঙ্গে অভিনয় শিল্পী এবং চিত্রশিল্পী। কোনটা আপনার কাছে বেশি প্রাধান্য পায়?

দুটো বিষয় আপাত ভিন্ন মনে হলেও একেবারে একই সুতোয় গাথা। থিয়েটার এমন একটি জায়গা যেখানে, সব ক্ষেত্রে নিজেকে আবিষ্কার করা যায়। বলতে পারেন কাজ করার সুযোগ রয়েছে একজন গানের শিল্পীর, নিত্যশিল্পীর, চিত্রকরের। তবে আমার বেলায় আমি এখনো তৈরি হচ্ছি,  কাজ করছি। আর চিত্রশিল্পীর কাজ একেবারেই একা একা করার বিষয়। সেখানে শিল্পী নিজের মেধা ও মননে নিজের চিন্তার প্রতিফলন ঘটান। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেকে একজন চিত্রশিল্পী হিসাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। জীবনে অনেক ধাক্কা খেয়েছি একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে, এখনো সংগ্রাম করছি। চারকোল গ্যালারি নামে আমার একটা প্লাটফর্ম আছে। আমি চাই চারকোল গ্যালারির মাধ্যমে শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে, যেন  চিত্রশিল্পীরা শুধু ছবি এঁকে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেন।

দেশের বাইরে এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় আপনার চিত্র প্রদর্শনী হচ্ছে। সে সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

আমি পাঁচ বছর ধরে চারকোল গ্যালারি বিডি’র মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি ভারতের সঙ্গে। বছরে ৫টি প্রদর্শনী  আয়োজন করেছি কলকাতার প্রগতির সঙ্গে এক হয়ে। এবার আরো বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ হয়েছে কোরিয়ার সঙ্গে। কোরিয়ার কালচার অব মিনিস্ট্রি থেকে আয়োজন করা হয়েছে আর্ট ফেয়ারের। সেখানে চারকোল গ্যালারি বিডি আমন্ত্রিত। আমার ৬টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত  হতে চলছে। এখানে ১৫টি দেশের ১৫টি গ্যালারি অংশগ্রহণ করছে। আজ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত গুয়াঞ্জু মেট্রো সিটিতে প্রদর্শিত হবে। কোরিয়ার এই প্রয়াসে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের শিল্পীদের চিত্র প্রদর্শনীর  সুযোগ তৈরি হলো।

দেশের বাইরে নাট্য বা চিত্র প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতার ধরন বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কিছু বলুন।

দেশের বাইরে চিত্র প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা খুবই  প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে এককভাবে করার ক্ষেত্রে। শিল্প-সংস্কৃতি যেহেতু দেশের পরিচয় বহন করে তাই এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকা উচিত।