আলোচনায় দোয়েল

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২০:১০

 মোহাম্মদ তারেক

 

অপেক্ষার ফল নাকি মিষ্টি হয়। সে ফলই এখন পাচ্ছেন দিলরুবা দোয়েল। সম্প্রতি মুক্তি পায় তার ছবি ‘চন্দ্রাবতী কথা’। দর্শকের সঙ্গে বসে এন রাশেদ চৌধুরী পরিচালিত ছবিটি দেখে যেন ভারমুক্ত হলেন তিনি। প্রায় এক বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিনা কর্তনে সেন্সর সনদ পেলেও অতিমারির জন্য ছবিটি এতদিন মুক্তি দেওয়া যাচ্ছিল না।

ষোড়শ শতাব্দীর মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর জীবন অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে ‘চন্দ্রাবতী কথা’। এ ছবিতে ‘চন্দ্রাবতী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দোয়েল। বিভিন্ন বয়সের দর্শক ছবিটি দেখে তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। দোয়েলের ভাষ্যমতে, আমরা প্রচারণার জন্য বিভিন্ন সিনেমা হলে যাচ্ছি। দর্শকদের সঙ্গে কথা বলছি। তারা প্রায় চার শ’ বছর আগের একজন নারী কবিকে নিয়ে ছবি নির্মাণের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তারা ভালোলাগার কথা জানাচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে অনেকে আমার অভিনয়ের জন্য প্রশংসা করছেন।

এ প্রজন্মের দর্শকদের প্রশংসা পেয়ে আপ্লুত দোয়েল। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দর্শকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারাও ছবিটি পছন্দ করেছেন। তাই দেশের অন্যান্য সিনেমা হলেও ছবিটি মুক্তির উপায় খুঁজছি।

ষোড়শ শতাব্দীর মহিলা কবির চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দোয়েল বলেন, ‘আমরা জানতাম না সে সময়ের কেমন পোশাক ও গহনা ‘চন্দ্রাবতী’ পরতেন। এটি ময়মনসিংহের গীতিকবিতা। আমাকে সে অঞ্চলের ভাষা শিখতে হয়েছে। শীতের সময় একটি শাড়ি পরে শুটিং করেছি। পুরো ইউনিটের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে শুটিং নির্বিঘ্নে করা সম্ভব হয়েছে। এখন দর্শকদের কথা শুনে মনে হচ্ছে পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে।’

দোয়েল জানান, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময়ে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা প্রভৃতি এলাকায় ছবিটির দৃশ্য ধারণের কাজ করা হয়। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ করা হয় ভারতে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ২৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। এ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মিতা রহমান, গাজী রাকায়েত, ইমতিয়াজ বর্ষণ, কাজী নওশাবা আহমেদ, আরমান পারভেজ মুরাদ প্রমুখ।

সরকারি অনুদান, ম্যানগ্রোভ পিকচার্স ও বেঙ্গল ক্রিয়েশন্সের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

একটি পত্রিকার পাতায় মডেল হয়ে শোবিজে পা রাখেন দোয়েল। অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘আলফা’র মাধ্যমে। এরপরই তিনি যুক্ত হন ‘চন্দ্রাবতী কথা’য়। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার আরও কয়েকটি ছবি। দোয়েল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নূরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’, শবনম ফেরদৌসীর ‘আজব কারখানা’ ও সৈকত নাসিরের ‘ক্যাসিনো’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে ‘ক্যাসিনো’ সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ছবি। ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ মুক্তিযুদ্ধকালীন গল্পে নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘আজব কারখানা’ সমসাময়িক গল্পের ছবি। মুক্তির অপেক্ষায় একাধিক ছবি। তবে কি বড়পর্দায়ই থিতু হবেন? প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতেই তার সহাস্য উত্তর— ‘আমার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয় বড়পর্দায়। মিউজিক ভিডিও ও নাটকের কাজ করেছি। স্টিল ফটো শুটের পাশাপাশি র্যাম্পে হেঁটেছি। শুধু বড়পর্দায় কাজ করব এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। অভিনয়ের জায়গা থাকলে যেকোনো মাধ্যমে কাজ করব।’