প্রাচ্যের আপেল হিসেবে পরিচিত এ ফলটির ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, এটি প্রথমে মেক্সিকো থেকে কলম্বিয়ায় এসেছে; তারপর এসেছে ব্রাজিল ও পেরুতে। সমুদ্র পার হয়ে ফলটি বাংলাদেশে এসেছে বলে শাস্ত্রে একে ‘পারাবাত’ বলা হয়ে থাকে। ফলটির পরিচিত নাম পেয়ারা। যতদূর জানা যায়, পর্তুগীজরা এটিকে আমাদের দেশে এনেছে। কিংবদন্তি আছে— ল্যাটিন আমেরিকা, থাইল্যান্ড কিংবা ভারতের কাশি ও গয়া থেকে বিভিন্ন পেয়ারার বীজ এনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে চাষাবাদ শুরু হয়। অন্যদিকে পাখপাখালি ফলটি খেয়ে বিষ্ঠা ত্যাগের পর সেই বিষ্ঠামিশ্রিত বীজ থেকেই পেয়ারা গাছের জন্ম। সারা পৃথিবীতে পেয়ারার অসংখ্য প্রজাতি রয়েছে। বিভিন্ন দেশের পেয়ারার স্বাদ, গঠন, বীজ এবং উদ্ভিদের গঠনও ভিন্ন।
পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’। এর ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের ত্বকে অপেক্ষাকৃত বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। পেয়ারার খোসায় রয়েছে ফাইবার বা আঁশজাতীয় উপাদান, যা খাবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি যত বেশি ভিটামিন ‘সি’ খাবে, তা তত বেশি তার দেহে ক্ষতিকর সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এক্ষেত্রে পেয়ারা সর্বোত্কৃষ্ট। পেয়ারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। হার্টের সমস্যায় ভুগলে এবং কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেয়ারার জুড়ি নেই। পেয়ারার ভিটামিন ‘সি’ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। অ্যাজমা, স্কার্ভি, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এমনকি প্রোস্টেট ক্যান্সারের মতো রোগও প্রতিরোধ করে পেয়ারা। পেয়ারা পাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রুখতে সাহায্য করে। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ যেমন আলঝাইমার্স, ছানি প্রতিরোধেও পেয়ারার জুড়ি নেই। তাছাড়া পেয়ারা পাতা ওজন কমাতে এবং পেয়ারা পাতার জুস সর্দি-কাশি উপশমে বেশ উপকারী। পেয়ারায় আরো রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ, যা দেহের লবণ ও অম্ল-ক্ষারের সঠিক পরিমাণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের দেশে বিভিন্ন জাতের পেয়ারা রয়েছে—যেমন কাজী, পলি, স্বরূপ, কাঞ্চননগর, চিনা, ইপসা, পাহাড়ি ইত্যাদি। অনেকে পেয়ারা মুখে দিয়ে শুধু রসটুকুই খায় এবং মাংসালো অংশটুকু ফেলে দেয়। পেয়ারার সবকিছুই খাওয়া উত্তম এবং স্বাস্থ্যকর।
