মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ও পূর্ণাঙ্গ ‘ইলমে ক্বিরাতের’ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার সময় যার নাম ছিল—মাদরাসা দারুল কুরআন। উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদুলাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা মুফতী দ্বীন মুহাম্মাদ খান (রহ.) উভয়েই স্বপ্ন দেখেছিলেন, যাতে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ পৌঁছে যায়। এজন্য কুরআন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ৬০-র দশকে যখনই তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ ক্বারী হযরত মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাত্ হতো উভয়ই তখন তাকে অনুরোধ করতেন, তিনি যেন তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে তথা বাংলাদেশে এসে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও ক্বিরাতের তা’লীম শুরু করেন। হযরত মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ (রহ.) চট্টগ্রামের সন্তান। তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম ও একমাত্র বাঙালি ক্বারী হিসেবে প্রথমে করাচি রেডিওতে এবং পরবর্তী সময় পাকিস্তান টেলিভিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাওলানা হাফেজ্জী হুজুর (রহ.), মুফতী দ্বীন মুহাম্মাদ খান (রহ.), উর্দু রোড জামে মাসজিদের খতিব হজরত মাওলানা মীর আহমাদ (রহ.) এবং ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ (রহ.)-এর উদ্যোগে ঢাকার উর্দু রোড জামে মসজিদে মাদরাসা দারুল কোরআন নামে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে উর্দু রোড জামে মাসজিদ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, হাইকোর্টের ঈদগাহ মসজিদ, চকবাজার শাহি মসজিদে এবং ১৯৮৩ সাল হতে লালবাগ কিলার মোড় মাক্কী মসজিদে এর কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। ২০০৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশ’ রাখা হয়। বর্তমানে লালবাগের মাসজিদুল গফুর-এর পাশাপাশি এর কার্যক্রম আবাসিকভাবেও পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ক্বিরাত বিভাগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা করছেন। অত্র প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণের জন্য বিভিন্ন কোরআন শিক্ষা কোর্স বিদ্যমান রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠার ৫০তম বর্ষে পা রেখেছে, আলহামদুলিল্লাহ্। এই উপলক্ষ্যে আগামী ৩০ অক্টোবর আজিমপুরে এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।
l লেখক :শিক্ষার্থী, মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশ
