সোনালি সময়টা ১৪ বছর আগের। মোহাম্মদ আশরাফুল, আফতাব আহমেদের আগুনে ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের ‘সবেধন নীলমণি’ একমাত্র জয় এটি। ঐ ম্যাচে দুই দলের হয়ে খেলা ক্রিস গেইল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা এবারও আছেন। বিশ্বকাপের গত ৬ আসরের মূল পর্ব থেকে বর্তমান আসর পর্যন্ত হন্যে হয়ে একটি জয় খুঁজছে বাংলাদেশ। অনেক চেষ্টার পরও মিলছে না জয়ের দেখা। আজ ‘সেই’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই আবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সুপার-১২ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লড়বে দুই দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়।
তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিশ্বকাপে এখন দুই দলই একবিন্দুতে দাঁড়িয়ে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবং বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দুটি করে ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পায়নি। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে আজ জয় অনিবার্য দুই শিবিরের জন্যই। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শামিল বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের অনেকবার সাক্ষাত্ হয়েছে। উইন্ডিজদের বিপক্ষে টি-২০ তে ১২ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় ৫টি। ক্যারিবিয়ানরা জিতেছে ৬টি ম্যাচ। সেক্ষেত্রে আজ টাইগারদের সামনে সুযোগ দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে সমতা আনার। যদিও কাজটা খুব কঠিনই বটে। কারণ ক্যালিপসো ছন্দের ধারক ক্যারিবিয়ানরা টি-২০ তে শক্তিশালী দল। সারা বিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজ লিগ খেলে বেড়ানো, বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত সব ব্যাটসম্যান রয়েছে দলটিতে। তাদের খুনে ব্যাটিংয়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে পারে বিশ্বের যে কোনো দল। যদিও এবার বিশ্বকাপে এমন বেপরোয়া রূপে হাজির হতে পারেনি তারা। এখানেই বড় সুযোগ মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকদের। জিততেই হবে এমন সমীকরণের ম্যাচের আগে উইন্ডিজরাও খুব ছন্দে নেই। সিমন্স-পুরানদের খারাপ সময়টাকে দীর্ঘায়িত করতে হবে সম্মিলিত পারফরম্যান্সে। টানা দুই হারের পর আজকের ম্যাচে জয়ের জন্যই বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় টাইগাররা।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গতকাল অনুশীলনই করেনি মাহমুদউল্লাহর দল। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হাসান সোহানের কথায় স্পষ্ট জয়ের জন্য মরিয়া টাইগাররা। গতকাল সোহান বলেছেন, ‘এখন সব থেকে বড় যে জিনিসটা তা হলো টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে গেলে উইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচটা জেতা গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমাদের সবার ফোকাসটা এই ম্যাচ নিয়েই। এখানে সবাই নিজের শতভাগ দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে বলে আমি মনে করি।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অতীতের পারফরম্যান্সে প্রেরণা যোগাচ্ছে দলকে। সোহান বলেন, ‘আমরা শেষ সিরিজগুলোয় ওদের সঙ্গে ভালো করেছি। এটা অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’
প্রথম রাউন্ডেও চাপে পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ দল। সুপার-১২ পর্বেও আজ তেমন ছবি আঁকতে চান সাকিব-মুস্তাফিজরা। গতকাল সোহান বলেছেন, ‘অনেক সময় আমাদের যেটা হয়েছে খারাপ অবস্থানে ছিলাম, আবার আমরা ব্যাক করেছি।’
বিশ্বকাপে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের কারণে কয়েক দিন ধরে সমালোচনার তোপেই দিন কাটছে টাইগারদের। সেসব ভুলে আজ উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রাকে নতুন ‘জীবন’ এনে দিতে মুখিয়ে সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা।
