উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংগঠন

ফোবানা এখন মানবিক কাজে এগিয়ে আসছে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩১

'করোনার তীব্র প্রকোপে স্তব্ধ যুক্তরাষ্ট্র শহর, মুখরিত রঙিন শহরও থেমে যায়। জানতে পারি বাংলাদেশি কিছু পরিবার ও প্রবাসীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। খাদ্য ও আর্থিক সহযোগিতা করতে বের হই, সারিবদ্ধ লাশ ও নিথর দেহ সাজানো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্নস্থানে এসব দেখেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রবাসে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াই।' আলাপচারিতায় এমনটিই বলছিলেন দেশে ও প্রবাসে বাংলাদেশীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) এর চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী।

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম  এই সংগঠন ১৯৮৭ সালে দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে। সেসময় সংগঠনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশি সমিতি দ্বারা বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করা। তবে সময়ের সাথে সাথে নানা নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়।

২০০৯ সালে ফোবানা উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সাথে সম্পর্কিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য একটি বিশেষ স্থায়ী কমিটি গঠন করে। বর্তমানে সমস্ত সাংগঠনিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়কে সমর্থন করে পঁচিশটি স্থায়ী কমিটি রয়েছে।

জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, 'এক সময় ফোবানা ছিল সামাজিক এবং সংস্কৃতিক সংগঠন, এটি এখন মানবিক সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশ্বে মহামারির সময় আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরসহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করেছে।  স্কাউট, লায়ন্স ক্লাব, সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন, মানুষ মানুষের জন্য, এই ধরণের অনেকগুলো সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে আমরা মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি।'

তিনি আরও বলেন, 'ফোবানা এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তিও দিচ্ছে। আগে শুধু আমেরিকায় এটা দেয়া হতো, এখন বাংলাদেশে এটা চালু করেছি। সম্প্রতি আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একটি এমওইউ সাইন করেছি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আমরা স্কলারশিপ দিব। বিভিন্ন ভালো কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দেশের বাইরে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। অনেক বাংলাদেশিদের সন্তানরা  যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিচ্ছে, তারা যেন  রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, লালনগীতি, পল্লীগীতি জানতে পারে, ফোবানার মাধ্যমে আমরা সে বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছি।'

মানবিক,  সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসা ও প্রবাসীদের নিয়েই কাজ করছে ফোবানা। সংগঠনটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরীর বেড়ে ওঠা ফেনীর প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায়। গ্রামে শৈশব কাটানো জাকারিয়া একসময় পরিবারের ব্যবসার হাল ধরেন, একপর্যায়ে চলে যান বিদেশে। ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি সবসময় দেশের কথাই ভাবেন। সেই ভাবনা থেকে তরুণদের নিয়ে কাজ করারও আগ্রহের রয়েছে তাঁর।

জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, 'দেশের যেসব তরুণ ভালো কাজ করে ও করতে চায়, তাদের জন্য আমাদের উৎসাহ উদ্দীপনা ও সহযোগিতা সবসময়ই থাকবে। দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের ভূমিকাই উল্লেখযোগ্য। তরুণরা দেশের বিভিন্নখাতে হাল ধরলে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশ আরও সুনাম বয়ে আনবে।'

সংগঠনটি প্রতিবছর ফোবানা সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। এবছর ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে ৩৫তম ফোবানা সম্মেলন। নতুন প্রজন্মের অঙ্গীকারকে সামনে রেখে এবারের ফোবানার মূল প্রতিপাদ্য ‘অদম্য বাংলাদেশ অবাক বিশ্ব’। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, নগর বাউল জেমস, তাহসান খান, হৃদয় খান, শফি মন্ডল, লায়লা, সহ জনপ্রিয় শিল্পীদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ও উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত একঝাঁক প্রবাসী শিল্পীরাও এখানে অংশ নিবেন। এছাড়া প্রবাসে থাকা লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, শিল্পী ও স্বনামধন্য অনেকেই সম্মেলনে  অংশ নেবেন বলে জানান জাকারিয়া চৌধুরী।

ইত্তেফাক/এসটিএম