রেস্তোরাঁয় আচরণ যেমন হবে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৭

 

l আবরার জাহিন

 

ডিজিটাল যুগে রেস্তোরাঁ যেন সকল আয়োজনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। কারো সঙ্গে  দেখা-সাক্ষাত্ থেকে শুরু করে জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকীর পার্টিসহ প্রায় সব অনুষ্ঠানই  আজকাল রেস্তোরাঁয় হয়ে থাকে। পোশাক-আশাক, খাওয়া-দাওয়াসহ রেস্তোরাঁয় আরও কিছু বিষয়ে নিয়ম মেনে চলা উচিত। অবশ্য অনেক সময় আমরা না বুঝে রেস্তোরাঁয় নানা ধরনের অস্বস্তিকর আচরণ করে ফেলি। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক রেস্তোরাঁয় আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত।

l রেস্তোরাঁয় প্রবেশের সময় পুরুষদের উচিত মহিলাদের জন্যে দরজা খুলে দেওয়া।

l রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করেই কোনো আসনে বসতে চলে যাবেন না। বরং রেস্তোরাঁকর্মী এগিয়ে এসে আপনাকে নির্ধারিত টেবিল দেখিয়ে দিলে তবেই সেখানকার চেয়ারে বসুন।

এক্ষেত্রে আগে থেকে টেবিল বুক করা থাকলে ম্যানেজারকে জানান। কতজনের জন্য টেবিল প্রয়োজন বা আপনার কেমন টেবিল পছন্দ সেটিও জানান। অবশ্য পছন্দের টেবিল পাওয়ার জন্য আগে থেকে বুক করে রাখা ভালো। বসার সময় মহিলাদের আগে বসতে দিন।

l আপনি যদি কারো অতিথি হিসেবে রেস্তোরাঁয় গিয়ে থাকেন, তাহলে রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে আগে হোস্টের নাম উল্লেখ করুন। তখন ম্যানেজার আপনাকে জানিয়ে দেবেন তিনি এসেছেন কি না।

l অতিথি হিসেবে এলে অবশ্যই সময়মতো আসার চেষ্টা করুন। হোস্টকে রেস্তোরাঁয়  অপেক্ষায় রাখা অনুচিত হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত রেস্তোরাঁয় হোস্ট অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। কোনো বিশেষ কারণে দেরি হলে হোস্টকে আগে থেকে বিষয়টা ফোন করা জানিয়ে দিন। 

l রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করার সময় মনে রাখবেন, রেস্তোরাঁর সবাই কমবেশি আপনাকে খেয়াল করছেন। কখনো ভাববেন না রেস্তোরাঁর কর্মীরা আপনাকে খেয়াল করেননি। তাই আরাম করে বসুন। টেবিল চাপড়ে, শিস দিয়ে, কিংবা ‘ওয়েটার’ বলে ডাকবেন না। কারণ কিছু সময় পর যে তারাই আপনার কাছে জানতে আসবেন—কী অর্ডার করতে চান।

l খাবারের আগে ড্রিংকস অর্ডার দিন। আপনি যা খেতে পছন্দ করেন, তাই অর্ডার করুন। যদি খাবার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তাহলে অন্যের দেখা-দেখি খাবার অর্ডার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি মেনু দেখে বুঝতে না পারেন, ওয়েটারকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে দ্ব্বিধা করবেন না। কোনো বিষয়ে কনফিউশনে থাকলে ওয়েটারের পরামর্শ নিতে পারে।

l আপনি যদি অতিথি হয়ে যান, তাহলে অর্ডার দেওয়ার সময় একটু সচেতন থাকতে হবে। খুব বেশি দামি খাবার অর্ডার না দেওয়াই ভালো। মোটামুটি দাম বুঝে অর্ডার দিন।

l যদি আপনি কাউকে রেস্তোরাঁয় নিমন্ত্রণ করে থাকেন, তাহলে অর্ডার দেওয়ার আগে অতিথির জন্যে অপেক্ষা করুন। কারো যদি অতিরিক্ত দেরি হয়, তাহলে অন্য অতিথিদের অর্ডার করতে বলতে পারেন, তবে আপনি অবশ্যই অপেক্ষা করবেন।

l যে কোনো পাবলিক প্লেসের মতো রেস্তোরাঁতেও কিছু আচরণ মানা জরুরি। যেমন,  জোরে কথা বলা বা হাসা একেবারেই অনুচিত। মনে রাখবেন, আপনি ছাড়াও অনেকে রেস্তোরাঁয় খেতে এসেছেন।

l প্রতিটি রেস্তোরাঁর কিছু পিক আওয়ার এবং কিছু অফ-পিক আওয়ার থাকে। পিক আওয়ারে সাধারণতই কাস্টমারের বেশ চাপ থাকে। এই সময় খাবার তৈরি হতে খানিকটা দেরি হতেই পারে। এই বিষয়টি আপনাকে মেনে নিতে হবে। খাবার দিতে দেরি হলে খারাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

l অনেক সময় খাবার পরিবেশন করতে খানিকটা উষ্ণ খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলে খাবারে মান নিয়ে খারাপ ব্যবহার করা উচিত নয়। আবার খাবার অনেক সময় ওভেন কিংবা উনুন থেকে সরাসরি নামিয়ে পরিবেশন করা হয় বলে খানিকটা গরম বেশি হলে, তা নিয়েও রেস্তোরাঁকর্মীকে ডাক দেওয়ার কিছু নেই।

l যদি চামচ মাটিতে পরে যায় বা টেবিলে কোনো খাবার পড়ে যায়, তাহলে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ওয়েটারকে ডেকে আপনার সমস্যার কথা বলুন।

l যদি রেস্তোরাঁয় চেনা কারো সঙ্গে দেখা হয় তাহলে তাত্ক্ষণিক উঠে গিয়ে কথা বলা জরুরি নয়। বরং দূর থেকে হাত নাড়তে বা হাসতে পারেন। উঠে গিয়ে কথা বললেও, বেশি সময় তাদের টেবিলে কাটাবেন না। মনে রাখবেন, তারা রেস্তোরাঁয় নিজেদের মতো সময় উপভোগ করতে এসেছেন।

 

বিল ও অন্যান্য

বিল দেওয়ার সময় নিজের মানিব্যাগ থেকে টাকা সাবধানে বের করুন। সবাইকে  দেখিয়ে বিল দিবেন না। আপনি যদি অতিথি হন, তাহলে হোস্টকে কত বিল হয়েছে—   এধরনের প্রশ্ন করবেন না। এটা রীতিমতো অভদ্রতা। উনি যখন বিল দিচ্ছেন, আপনার অন্যমনস্ক থাকাই ভালো। যদি আপনার খাওয়া-দাওয়া বা সেবা পছন্দ না হয় ওয়েটারকে জানাতে পারেন। যদি তাতে যথাযথ উত্তর না পান, তাহলে ম্যানেজারকে জানাতে পারেন। তবে অভিযোগ করার আগে অবশ্যই ভেবে নিন আপনার অভিযোগের পিছনে যথাযথ যুক্তি আছে কি না। যা বলবেন ভদ্রভাবে বলুন, কোনো রকম সিনক্রিয়েট করবেন না।

 

টিপস দিন ভেবেচিন্তে

রেস্তোরাঁয় রেস্তোরাঁকর্মী কমবেশি টিপস আশা করেন। তবে খুবই সামান্য পরিমাণে  টিপস দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি সে সময় আপনার সম্মানজনক টিপস দেওয়ার সামর্থ না থাকে, তবে টিপস দিবেন না। কারণ আপনি টিপস না দিলেও তিনি আপনাকে নিয়ে বিরূপ কোনো ধারণা পোষণ করবেন না। বরং আপনি যদি অসম্মানজনক টিপস দেন, তাহলে আপনার বিষয় তার মনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।

 

মডেল ঐশী   মেকআপ রিভাইস হেয়ার অ্যান্ড বিউটি সেলুন    ছবি আদিব আহমেদ   কৃতজ্ঞতা ডালাস ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট