ফ্লোরের শোভা বাড়াতে কিংবা ঠান্ডা থেকে মুক্তি পেতে ঘরের মেঝেকে বাহারি রঙের কার্পেটে মুড়িয়ে নেওয়া হয়। ঘরের আয়তন এবং রং অনুসারে কেমন কার্পেট ব্যবহার করা হয় তেমনি, কার্পেটের রং বা ফেব্রিক্স বিষয়েও প্রাথমিক কিছু ধারণা রাখা প্রয়োজন। এ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন
আবরার জাহিন
সবচেয়ে উজ্জ্বল রঙ ও দীর্ঘদিন ব্যবহারের সুবিধার জন্য পৃথিবী জুড়েই পলিস্টার কার্পেটের চাহিদা বেশি। এছাড়া পলিস্টার কার্পেটগুলো নন-অ্যানার্জিটিক ও ইকোফ্রেন্ডলি হয়, এতে ব্যবহারে এলার্জির কোনো সমস্যা হয় না। নাইলনের কার্পেটগুলো খুবই নরম, কিন্তু পিচ্ছিল ম্যাটেরিয়ালে তৈরি। এগুলো বিভিন্ন রঙের টেক্সচারে পাওয়া যায়। এ ধরনের কার্পেটে খুব সহজে দাগ পড়ে না। অন্যান্য কার্পেটের তুলনায় নাইলনের কার্পেটের ইলাস্টিসিটি বেশি হওয়ায় ভারী আসবাবপত্র নিশ্চিন্তে রাখা যায়। পলিপ্রপিলেন ম্যাটেরিয়ালের তৈরি কার্পেটগুলো বেশ নরম হয়। পলিপ্রপিলিনে তৈরি কার্পেট একটানা বহুদিন ব্যবহার করলেও দুর্গন্ধ হয় না। এছাড়া দেশীয় উপকরণ হিসেবে পাট ও রাবারের তৈরি কার্পেট বর্তমানে সবারই নজর কাড়ছে। পাটের তৈরি কার্পেটের ব্যবহার খুব বেশী না হলেও যারা ঘরের পরিবেশে দেশীয় আমেজে আনতে চান তারা পাটের তৈরি কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন।
এবার তবে জেনে নিন কার্পেট
ব্যবহারের কিছু টিপস—
l সিঁড়িতে কার্পেট ব্যবহারের কথা ভাবলে সিসালের তৈরি কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। সিসালের তৈরি কার্পেট নন-টক্সিক হয়ে থাকে। এতে ভারী জিনিস টানাটানি করলেও ছিড়ে যায় না। তবে পানির সংস্পর্শে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
l কার্পেট ঘরের যতটা জুড়ে বিছানো থাকে ঘর তত সুন্দর লাগে। বসার ঘর যদি বড় হয় তাতে যেকোনো রং কিংবা ডিজাইনের কার্পেট মানিয়ে যাবে।
l বড় ঘরের ক্ষেত্রে ছোট আকারের কার্পেট যেমন—ডিম্বাকৃতি, চতুর্ভুজ নিত্য নকশার কার্পেট বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
l শোয়ার ঘরের জন্য হালকা বা গাঢ় সবুজ যেকোনো রঙের কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে সেইসঙ্গে হালকা নীল কিংবা যেকোনো হালকা রং ব্যবহার করতে পারেন। সবুজ ও নীল চোখের জন্য উপকারী, যা কার্পেট নির্বাচনের সময় বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
l পড়ার ঘরের কার্পেটে নকশার দিকে লক্ষ্য রাখতে পারেন। পড়ার ঘরে যেকোনো রঙের কার্পেটে মানিয়ে যায়। মনে রাখবেন, কার্পেটের নকশা যদি দেখতে আকর্ষণীয় হয় তাহলে পড়ার ঘরের পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে।
l বাড়ির বাথরুম, বারান্দা ও সিঁড়িতে কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে গোসলের জায়গা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে বাথরুমের বেসিনের সামনে কৌশলে রাখতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন কার্পেটে না পরে।
দরদাম
বিভিন্ন রকমের নকশার ওপর নির্ভর করে কার্পেটের দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কার্পেট সাধারণত বর্গফুট হিসেবে কিনতে হয়। বিদেশি কার্পেটগুলোর ক্ষেত্রে দাম পড়বে ৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। পাটের তৈরি কার্পেটের দাম ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা।
কোথায় পাবেন
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, পল্টন, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, উত্তরা ও গুলশানের বিভিন্ন মার্কেটে নানা আকার ও ডিজাইনের কার্পেট পাওয়া যায়। এসব দোকানে কার্পেট পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়। তবে রাজধানীতে কার্পেটের সবচেয়ে বড় বাজার এলিফ্যান্ট রোড। কেনার সময় দেখে নিতে হবে ভালো করে ভাঁজ করা যায় কি না।
পরিষ্কার করার উপায়
l কার্পেট একদিন পরপর ভ্যাকুয়াম ক্লিন করুন। এতে কিছুটা সময় দিতে হলেও কার্পেট বেশিদিন ভালো থাকবে।
l কার্পেট ক্লিনিং প্রডাক্টস হিসেবে মাইল প্রোডাক্ট বেছে নিন। ক্লিনিং প্রডাক্টস বাড়িতেও তৈরি করে নিতে পারেন। ভাই ভিনেগার বেকিং সোডা ও জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যায়। কার্পেটের যেখানে দাগ রয়েছে তার ওপর ব্রাশ দিয়ে এই পেস্ট লাগিয়ে রাখুন। তারপর শুকিয়ে গেলে ভ্যাকুয়াম ক্লিন করে নিন।
l কার্পেটে তরল পদার্থ যেমন সস বা জুসের মতো কোনোকিছু পরলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন।
l কোনো কার্পেট ব্যবহার না করলে সেগুলো প্লাস্টিক শিটে মুড়িয়ে পরিষ্কার স্থানে রাখুন। কারণ সামান্য ময়েশ্চারও আপনার মূল্যবান কার্পেটগুলো নষ্ট করে দিতে পারে।
