দাওয়াত একটি আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ-ডাকা, আমন্ত্রণ জানানো, আহ্বান করা। আল্লাহর পয়গাম্বরগণের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানবজাতিকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা। নবী ও রাসুলগণের সমস্ত শিক্ষা বা তালীম হচ্ছে এ দাওয়াতেরই ব্যাখ্যা। কোরআন পাকে রাসুল (স) এর বিশেষ পদবি হচ্ছে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হওয়া। সূরা আহযাবের ৪৬তম আয়াতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রাসুল (স) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া উম্মতের উপরও ফরজ করা হয়েছে। সুরা আলে-ইমরান এর ১০৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে- ‘তোমাদের মধ্যে একটি দল এমন থাকা উচিত যারা মানুষকে মঙ্গলের প্রতি দাওয়াত দেবে অর্থাত্ সত্ কাজের আদেশ করবে এবং অসত্ কাজ থেকে নিষেধ করবে।’
এমনইভাবে সুরা হামীম সেজদাহ্ এর ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেন— ‘কথাবার্তার দিক দিয়ে সে ব্যক্তির চাইতে উত্তম কে হবে যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়। এছাড়া সূরা নাহল এর ১২৫ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন— ‘আপনার পালন কর্তার প্রতি আহ্বান করুন, জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দযুক্ত পন্থায়। আলোচ্য আয়াতে দাওয়াতের জন্য তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে— (এক) হিকমত, (দুই) সদুপদেশ ও (তিন) উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক। অবশ্য রুহুল মা’ আনীর গ্রন্থকার এখানে একটি সূক্ষ্ম তত্ত্ব বর্ণনা করে বলেছেন যে—আয়াতের বর্ণনা পদ্ধতি থেকে জানা যায়—আসলে দুটি বিষয়ই দাওয়াতের মূলনীতি— হিকমত ও উপদেশ।
তৃতীয় যে বিষয়টি রয়েছে তা মূলনীতির অন্তর্ভূক্ত নয়। তবে দাওয়াতের পথে কোনো কোনো সময় এরও প্রয়োজন দেখা দেয়। মোটকথা একজন প্রকৃত মুমিনকে একদিকে যেমন মহান আল্লাহ পাকের যে কোনো হুকুম পালনের জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে অন্যদিকে তাকে বিভিন্ন পন্থায় মানুষের কাছে দীনের দাওয়াতের কাজও অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহপাক আমাদের সেই তাওফীক দান করুন। আমীন।n
