ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের মানববন্ধন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে মানববন্ধন করেছে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ। মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পরেও দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানানো হয় এ মানববন্ধন থেকে। গতকাল বিকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এ মানববন্ধনে মিলিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গানে ও স্লোগানে সাম্প্রতিক ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয় । এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়।
বক্তারা বলেন, বাংলার চিরায়ত লোক সংস্কৃতিই অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছে চিরকাল। বর্তমানেও রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালন ফকির, শাহ আব্দুল করিম থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের তরুণ কবি-সাহিত্যিকদের যে সংগীত ও কাব্য রয়েছে তা চর্চার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ইসলাম ও ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা, শিল্পী শারমীন সাথী ইসলাম ময়না প্রমুখ।
বুলবুল ইসলাম বলেন, এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পূজামণ্ডপে, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা হয়েছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের চর্চাকে বেগবান করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। ডা. সারওয়ার আলী বলেন, সামাজিক আন্দোলনের পথ থেকে আমরা সরে এসেছি। আর সে কারণেই বারবার এ ধরনের ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সংস্কৃতি চর্চা বিকশিত করার মাধ্যমেই মানবিক বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মানববন্ধনে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ছায়ানট, কণ্ঠশীলন, পঞ্চভাস্কর, রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের উত্তরা শাখা, নারীপক্ষ, রবীন্দ্রসংগীত বিকাশ ও শিল্পী সম্মিলন কেন্দ্র, সদস্য ও নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সবার হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, ব্যানার। এতে ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তা লেখা ছিল। স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল মানববন্ধন। এছাড়া, মানববন্ধন থেকে সম্মিলিতভাবে গান গেয়ে শোনান এতে অংশ নেওয়া শিল্পী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। তারা একে একে গেয়ে শোনান ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’, ‘আমি মাড়ের সাগর পাড়ি দেব রে’, ‘ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য’ ও ‘বাংলার হিন্দু বাংলার বৌদ্ধ বাংলার খ্রিষ্টান বাংলার মুসলমান, বাংলার—আমরা সবাই বাঙালি’ প্রভৃতি।
